এক শর্তে বিজয়কে সমর্থন দিয়েছে কংগ্রেস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনের লক্ষ্যে অভিনেতা থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগামকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কংগ্রেস। তবে এই সমর্থনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তও জুড়ে দিয়েছে দলটি জোটে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রাখা যাবে না।
তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি এবং কংগ্রেস লেজিসলেটিভ পার্টি বিজয়ের দলকে সরকার গঠনে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির তামিলনাড়ু দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা গিরিশ চোদাঙ্কর।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, তাদের সমর্থন তখনই কার্যকর থাকবে, যদি জোটে এমন কোনো শক্তিকে না রাখা হয়, যারা ভারতের সংবিধানে বিশ্বাস করে না।
কংগ্রেসের পাঁচজন বিধায়কের সমর্থন পাওয়ায় বিজয়ের দলের মোট সমর্থন বেড়ে দাঁড়াবে ১১২ জনে। এর আগে ১০৭টি আসন নিয়ে দলটি একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে এখনো ছয়জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন।
এই পরিস্থিতিতে বিজয় এখন বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী)-এর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এই তিন দলের সমর্থন পেলে মোট সমর্থন দাঁড়াবে ১১৯ জন বিধায়কে, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বিজয়ের দলের নেতাদের এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাডি কে পলানিস্বামীর সঙ্গে বৈঠককে ঘিরে। জানা গেছে, চেন্নাইয়ে তার বাসভবনে দলটির প্রতিনিধিরা সাক্ষাৎ করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিজেপির সঙ্গে জোটে থাকা এআইএডিএমকের ভেতরে নতুন টানাপোড়েনের ইঙ্গিত হতে পারে।
কংগ্রেস আরও জানিয়েছে, এই জোট শুধু সরকার গঠনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; স্থানীয় সরকার নির্বাচন, লোকসভা ও রাজ্যসভা নির্বাচনেও এই সমঝোতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিজয় ও রাহুল গান্ধী তামিলনাড়ুর জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে একটি ধর্মনিরপেক্ষ ও প্রগতিশীল সরকার গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা পূরণে তারা একসঙ্গে কাজ করবেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি জয় পেয়ে বিজয়ের দল রাজ্যের একক বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এতে দীর্ঘদিনের ডিএমকে ও এআইএডিএমকের আধিপত্যে বড় ধাক্কা লাগে। নির্বাচনে ডিএমকে পেয়েছে ৫৯টি এবং এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন।
বিজয় ত্রিচি ইস্ট ও পেরাম্বুর দুটি আসনেই জয় পেয়েছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ত্রিচি ইস্ট আসন ছেড়ে দিয়ে পেরাম্বুর আসনটি ধরে রাখবেন। সে ক্ষেত্রে শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।