আওয়ামী লীগ থাকবে, তবে হাসিনা ছাড়াই: আলজাজিরাকে সজীব ওয়াজেদ জয়
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪০ এএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হয়তো আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরবেন না- এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তার ছেলে ও আওয়ামী লীগের আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা অবসর নিতে চেয়েছিলেন এবং এটিই ছিল তার শেষ মেয়াদ।
আলজাজিরার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈনের নেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, নির্বাচন, গণতন্ত্র ও দুর্নীতির অভিযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন জয়। ‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আছে কি না’—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বড় রাজনৈতিক দল এবং এর সমর্থনভিত্তি ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ। এত বড় একটি সমর্থকগোষ্ঠী হঠাৎ করে দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে জয় বলেন, তার মা এখন প্রবীণ এবং এমনিতেই অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এ প্রসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এটি এক অর্থে ‘হাসিনা যুগের অবসান’ও হতে পারে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা থাকুন বা না থাকুন—৭০ বছরের পুরোনো আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও প্রাণহানির প্রসঙ্গে জয় দাবি করেন, আন্দোলন মোকাবিলায় আওয়ামী লীগ ভুল করলেও শেখ হাসিনা কাউকে হত্যার নির্দেশ দেননি। তার মতে, প্রাণহানির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে থাকা উগ্রপন্থিরাই দায়ী। আলজাজিরা ও বিবিসির প্রচারিত অডিও ক্লিপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেগুলো খণ্ডিত ও প্রেক্ষাপটবিচ্ছিন্ন। পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ পরে দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞাকে জয় ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ কখনো কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেনি এবং আগের নির্বাচনগুলোতে কারচুপির প্রয়োজন ছিল না। দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে জয় বলেন, এফবিআই তার বিরুদ্ধে কোনো অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পায়নি।
শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান নিয়েও কথা বলেন জয়। তিনি জানান, ভারতের বিচার ব্যবস্থা ও আইনের শাসনের ওপর তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না।
সাক্ষাৎকারের শেষাংশে জয় বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, গত দেড় বছরে দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। তবে সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন পাল্টা যুক্তিতে বলেন, বর্তমান সংকটের জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী কি না—তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
সূত্রঃ আলজাজিরা