খাগড়াছড়ি কিশোরী ধর্ষণ অভিযোগ: মেডিকেল রিপোর্টে আলামত না পাওয়া, পার্বত্যাঞ্চল অশান্তির চেষ্টা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৪৪ পিএম
খাগড়াছড়িতে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে চলা উত্তেজনার মধ্যেই নতুন মোড় এসেছে। ওই ঘটনায় সাত দিন ধরে চলা অবরোধ, পাহাড়ি-বাঙালি সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা এবং সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার পর মেডিকেল রিপোর্টে কোনো ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি।
মেডিকেলের তিন সদস্যের কমিটি — ডা. জয়া চাকমা, ডা. মীর মোশাররফ হোসেন, ডা. নাহিদ আক্তার — পরীক্ষার পর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। জেলা সদর হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থেকে জানিয়েছেন, “নির্ধারিত পরীক্ষা অনুযায়ী কোনো ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি।”
খাগড়াছড়ি জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, একটি প্রতিবেদন জেলা পুলিশ সুপারকে জমা দেওয়া হবে, এবং বিস্তারিত তথ্য সেখান থেকে পাওয়া যাবে।
ঘটনা ঘটে ২৪ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার চেংগীলা এলাকায়। অভিযোগে বলা হয়, প্রাইভেট টিউশনের পর বাড়ি ফেরার পথে কিশোরীকে মুখে চেতনানাশক প্রয়োগ করে এক বা একাধিক ব্যক্তি নির্জন স্থানে নিয়ে যান এবং নির্যাতন চালান।
এই অভিযোগের পর পার্বত্য এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পাহাড়ি সংগঠন ইউপিডিএফ (মূল) এর সদস্যরা অবরোধে অংশ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রোববার রাতে রাঙামাটির গুইমারা এলাকায় ইউপিডিএফ সদস্যদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ও ঘটে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, “এই ঘটনার পেছনে প্রতিবেশী রাষ্ট্র এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে। তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে।”
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কার্যক্রম সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব গোষ্ঠী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশে প্রবেশ করছে।