দরিদ্রের ত্রাণের টিনে ভাগ বসালেন বিত্তশালী বিএনপি নেতা, সমালোচনার মুখে ফেরত
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের টিন ও নগদ অনুদান ভুল তথ্য দিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকটি সচ্ছল পরিবারের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে প্রশাসনের নির্দেশে তারা ত্রাণ সহায়তা ফেরত দিয়েছেন।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে রয়েছেন আদিতমারী উপজেলার ভাদাই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি দধি প্রসাদ বর্মণ, শামসুল হক, গোলাপী রানী এবং শংকর কুমার রায়। অভিযোগ রয়েছে, তারা নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত দাবি করে ত্রাণের জন্য আবেদন করেছিলেন, যদিও স্থানীয়ভাবে তাদের সচ্ছল পরিবার হিসেবে পরিচিতি রয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার হিসেবে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তালিকা অনুমোদন করে প্রত্যেক পরিবারকে এক বান্ডিল টিন ও তিন হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে তাদের অবস্থান ও আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে গত মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে তারা বরাদ্দ পাওয়া টিন ও টাকা ফেরত দেন।
অভিযুক্ত দধি প্রসাদ বর্মণ দাবি করেন, তার নিজের টিনের ঘর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাই তিনি সহায়তার জন্য আবেদন করেন। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় টিন ও টাকা ফেরত দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে শংকর কুমার রায় বলেন, সবসময় আর্থিক অবস্থা একরকম থাকে না। নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি ত্রাণ সহায়তা ফেরত দিয়েছেন।
গোলাপী রানীর স্বামী গোবিন্দ রায় জানান, আবেদন করেই তারা সহায়তা পেয়েছিলেন, তবে সমালোচনার কারণে পরে তা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, সুবিধাভোগীরা ভুল স্বীকার করে বরাদ্দকৃত সহায়তা অফিসে ফেরত দিয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিধান কান্তি হালদার জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম এড়াতে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।