যেভাবে গাজীপুরে ফাইভ মার্ডার, ফরেনসিক প্রতিবেদনে বেরিয়ে এলো রোমহর্ষক তথ্য
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক প্রতিবেদনে ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ফরেনসিক চিকিৎসকদের মতে, স্ত্রী, শ্যালক ও দুই মেয়েকে গলা কেটে এবং ছোট মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মাজহারুল হক এ তথ্য জানান।
গত শনিবার সকালে কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বহুতল বাসা থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের শাহাদাত হোসেন মোল্লার মেয়ে শারমিন খানম (৩০), তার ভাই রসুল মোল্লা (২৩), শারমিনের দুই মেয়ে মীম (১৫) ও উম্মে হাবিবা (৮) এবং দেড় বছরের শিশু ফারিয়া।
তারা কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামের এক প্রবাসী মজিবুর রহমানের বাসায় ভাড়া থাকতেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফোরকান মোল্লা গোপালগঞ্জ সদরের গোপীনাথপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
ফরেনসিক চিকিৎসক মাজহারুল হক জানান, শারমিন খানম, তার ভাই রসুল মোল্লা এবং দুই শিশু মীম ও হাবিবাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। আর দেড় বছরের শিশু ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও জানান, ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে হত্যার পদ্ধতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে হত্যার আগে তাদের কোনো ধরনের চেতনানাশক বা নেশাজাতীয় কিছু খাওয়ানো হয়েছিল কি না, তা জানতে পেটের নমুনা ও অন্যান্য উপাদান পরীক্ষার জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, নিহত শারমিন খানমের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় ফোরকান মোল্লাকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও চারজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
তিনি বলেন, ফোরকান মোল্লা গ্রেপ্তার হলে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।