সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম ১৭, সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা করার প্রস্তাব
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৭:২৬ পিএম
তরুণ সমাজকে ধূমপান থেকে নিরুৎসাহিত করা, অকাল মৃত্যু কমানো এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশে সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম ১৭ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো।
প্রস্তাবে বলা হয়, সিগারেটকে চারটি মূল্যস্তরে ভাগ করে দাম বাড়াতে হবে—প্রিমিয়াম, উচ্চ, মধ্যম এবং নিম্ন স্তর। প্রতিটি স্তরের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর আরোপের সুপারিশও করা হয়েছে।
প্রিমিয়াম স্তরে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের দাম ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে শুল্ক ও কর যুক্ত হয়ে প্রতি সিগারেটের দাম দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ টাকা।
উচ্চ মূল্যস্তরে প্রতি প্যাকেটের দাম ১৫০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে করসহ প্রতি সিগারেটের দাম দাঁড়াবে প্রায় ২৫ টাকা ৪৫ পয়সা।
মধ্যম ও নিম্নস্তরে প্রতি প্যাকেটের দাম ১০০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে কর যুক্ত হয়ে প্রতি সিগারেটের দাম দাঁড়াবে প্রায় ১৭ টাকা ১ পয়সা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এই মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হলে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ধূমপান ছাড়তে উৎসাহিত হবেন। পাশাপাশি তিন লাখের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকতে পারেন। দীর্ঘমেয়াদে বিপুল সংখ্যক মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব হবে বলেও দাবি করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, তামাক ব্যবহারের হার কমে যাবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়লেও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয় না কেন—এ প্রশ্ন এখন জরুরি। দাম বাড়ালে অর্থনৈতিক কারণে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ ধূমপান থেকে দূরে থাকবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সুফিয়ান নাহিন শিমুল বলেন, সিগারেট বাজারের বড় অংশ নিম্ন ও মধ্যম স্তরের পণ্যের দখলে। তাই এই স্তরে দাম বাড়ানো হলে নতুন ধূমপায়ী কমবে।
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, ফুসফুস ক্যান্সারের বড় কারণ ধূমপান। একটি সিগারেটে হাজার হাজার ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকে, যার অনেকগুলো ক্যান্সার সৃষ্টি করে। তাই ধূমপান নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বড় চাপ পড়বে।