৫ বছর মেয়াদে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের উদ্যোগ ডিএসসিসির
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
ব্যবসায়ীদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও ডিজিটাল করতে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর অংশ হিসেবে একবারে পাঁচ বছর মেয়াদে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন সংস্থাটির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত ‘স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, আইন-শৃঙ্খলা, মানবাধিকার উন্নয়ন ও ট্রেড লাইসেন্স সেবা’ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
মো. আব্দুস সালাম বলেন, ট্রেড লাইসেন্স সেবায় জোর-জবরদস্তির পরিবর্তে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে চায় সিটি করপোরেশন। ব্যবসায়ীরা যাতে ঘরে বসেই ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, হোল্ডিং ট্যাক্সসহ অন্যান্য কর পরিশোধ করতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী পাঁচ বছর মেয়াদে ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সাইনবোর্ড করের বিষয়ে প্রশাসক বলেন, বড় বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের অনেক সাইনবোর্ডের প্রকৃত আয়তন অনুযায়ী কর নির্ধারণ করা হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে কাউকে হয়রানি না করে ন্যায়সংগত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।
সভায় রাজধানীর যানজট, ফুটপাত দখল ও অবৈধ হকারকে ঢাকার প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর অন্যতম হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। হকার ও ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় এনে নির্ধারিত সংখ্যার ভিত্তিতে লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান। এর মাধ্যমে তাদের পরিচয় ও কার্যক্রম একটি ডিজিটাল তথ্যভান্ডারে সংরক্ষণ করা হবে।
ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সহযোগিতায় দীর্ঘদিনের বকেয়া ট্রেড লাইসেন্স এবং সিটি করপোরেশনের মার্কেটগুলোর ভাড়া আদায়ের সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক। এ জন্য বাজারভিত্তিক সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পুরান ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়েও বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়ার কথা তুলে ধরে মো. আব্দুস সালাম বলেন, রাজধানীকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে নাগরিকরা ঢাকাকে নিজেদের শহর হিসেবে গর্বের সঙ্গে ধারণ করতে পারেন।
তিনি ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে বলেন, যানজট, ফুটপাত দখল, চাঁদাবাজি ও নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজকেও দায়িত্ব নিতে হবে। তাদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এসব সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব নয়।
সভায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ করিম।
এ ছাড়া দুই সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক এবং বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।