সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে রাজপথে নামবে জামায়াত
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩২ পিএম
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত আহ্বান না করা হলে রাজপথে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, আগামীকালের মধ্যে সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীতে ১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ড. হামিদুর রহমান আজাদ জানান, সকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এতে এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, এলডিপি, এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন পার্টি ও লেবার পার্টিসহ জোটভুক্ত বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনকে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন বলা হলেও জনগণের ভোটাধিকারের পূর্ণ প্রতিফলন সেখানে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, জুলাই সনদের ভিত্তিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে একই দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। কিন্তু জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হলেও এখনো সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা হয়নি, যা নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে অধিবেশন আহ্বানের পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা ডাকবেন। তবে এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
ড. হামিদুর রহমান আজাদ সতর্ক করে বলেন, সরকার দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার উদ্যোগ না নিলে জনগণের প্রত্যাশা রক্ষায় বিরোধী দলগুলো রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, আগামী ২৮ মার্চ জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ওই বৈঠকে সম্ভাব্য আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ করা হতে পারে।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ এবং প্রশাসনে দলীয়করণের প্রবণতা জনমনে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে। এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রশাসন পরিচালনার দাবি জানান তিনি।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে সংসদ ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই বিরোধী দল তাদের দায়িত্ব পালন করবে। তার ভাষায়, জুলাই সনদের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নই জনগণের প্রত্যাশা এবং সরকারকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।