রাজধানীতে ভোজ্যতেলের তীব্র সংকট, দাম আরও বাড়ার শঙ্কা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৪ পিএম
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে ভোজ্যতেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কিছু দোকানে ভোজ্যতেল পাওয়া গেলেও তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। এতে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। অনেকে ভবিষ্যতে আরও দাম বৃদ্ধির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
বিক্রেতাদের দাবি, সরবরাহ সংকট এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য পরিমাণ তেল পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানি কমিশন কমিয়ে দেওয়ায় তাদের ব্যবসায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদের পর থেকেই মিল থেকে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। তারা এটিকে সম্ভাব্য নতুন দফা মূল্যবৃদ্ধির পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।
বর্তমানে বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খোলা সয়াবিন তেল লিটার প্রতি প্রায় ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা।
বোতলজাত তেলের তুলনায় খোলা তেল কিনতে গিয়ে ভোক্তাদের প্রতি লিটারে অতিরিক্ত ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের।
একজন বিক্রেতা বলেন, এজেন্টদের কাছ থেকে যে দামে তেল কিনতে হয়, অনেক সময় সেই দামে বিক্রি করতে হয়। এতে লাভ থাকে না, বরং লোকসান গুনতে হয়।
আরেক বিক্রেতা জানান, দোকানে তেল না থাকায় ক্রেতারা অন্য দোকান থেকে সব পণ্য কিনে নিচ্ছেন, ফলে অন্যান্য পণ্যের বিক্রিও কমে গেছে।
জানা গেছে, বাজারে সরবরাহ সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগও উঠছে। একই সঙ্গে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটার প্রতি ২০৭ টাকা এবং পাঁচ লিটারের দাম এক হাজার কুড়ি টাকা করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দামও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বলছে, ভোজ্যতেলের বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ে সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়, এরপরই দাম বাড়ানোর প্রস্তাব আসে।
সংগঠনটি বলছে, এ ধরনের অনিয়ম ও কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোক্তারা ন্যায্য দামে পণ্য কিনতে পারেন।