সিন্ধু পানি চুক্তিতে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
সিন্ধু পানি চুক্তিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক আদালতে গুরুত্বপূর্ণ আইনি জয় পেয়েছে পাকিস্তান। নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগভিত্তিক আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত পাকিস্তানের আবেদনের পক্ষে রায় দিয়ে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ইসলামাবাদের অবস্থানকে সমর্থন করেছে।
আদালতের এই রায়ের ফলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পানিবণ্টন বিরোধে পাকিস্তানের অবস্থান আরও জোরালো হয়েছে। এর আগে গত বছর ভারত একতরফাভাবে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়।
গত শুক্রবার দেওয়া রায়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত জানায়, ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং ভারত এককভাবে এটি স্থগিত করতে পারে না। কাশ্মীরের পাহেলগামে প্রাণঘাতী হামলার পর নয়াদিল্লি চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিল।
পাকিস্তান সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায়, আদালতের এই সিদ্ধান্ত তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানকে বৈধতা দিয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলোতে ভারতের পানি নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতার ওপর চুক্তিটি স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, রাতলে ও কিশেঙ্গাঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে ভারত প্রয়োজন অনুযায়ী পানির প্রবাহ আটকে রাখতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। বিশেষ করে বাঁধের পেছনে পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি ছাড়ার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি।
অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। এক বিবৃতিতে ভারত জানায়, তারা কখনোই এই আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করেনি। তাই আদালতের সব রায় ও কার্যক্রম তাদের কাছে অকার্যকর।
ভারত আরও জানিয়েছে, সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে।
বোস্টনভিত্তিক পানি আইন ও নীতিবিষয়ক গবেষক ইরুম সাত্তার বলেন, আন্তর্জাতিক আদালতের এই রায় আইনগত ও কারিগরি দিক থেকে যথাযথ হলেও বর্তমান ভারত-পাকিস্তান বৈরী সম্পর্কের কারণে বাস্তবে এর প্রভাব সীমিত হতে পারে।
তিনি বলেন, কোনো পক্ষ আন্তর্জাতিক কাঠামোর নিয়ম মানতে অস্বীকৃতি জানালে চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ প্রায় বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি আকাশপথেও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ বহাল আছে।
তবে সম্প্রতি ভারতের ডানপন্থী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের কয়েকজন শীর্ষ নেতা পাকিস্তানের সঙ্গে পুনরায় সংলাপ শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন। বিষয়টি পাকিস্তানেও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ভারত আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অনাগ্রহ দেখালেও পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলের সমর্থন নিয়ে কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে। তথ্যসূত্র: নিক্কেই এশিয়া