রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যালট ‘ওপেন’, কে কাকে ভোট দেবেন সবই দেখা যাবে: সিইসি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:০৪ পিএম
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল ২০ আগস্টের এই নির্বাচনকে ঘিরে সব ধরনের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দীন।
তবে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে গোপন ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। সংসদ সদস্যরা প্রকাশ্য বা ‘ওপেন’ ব্যালটে ভোট দেবেন। ফলে কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন, তা ভোটকক্ষে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে দৃশ্যমান থাকবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমকে ব্রিফ করেন সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন। সাধারণত নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জ্যেষ্ঠ সচিব গণমাধ্যমকে ব্রিফ করলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে সিইসির দায়িত্ব থাকায় তিনি নিজেই নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
সিইসি জানান, নির্বাচন কমিশন, জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের সমন্বয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের সব প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও প্রয়োজনীয় মহড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তা পূরণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর একই দিন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন।
সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতিতে বাংলাদেশে এই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে পুরো প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে।
জাতীয় সংসদ বর্তমানে নিয়মিত অধিবেশনে না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী সিইসি নিজেই সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করেছেন। গত ১১ আগস্ট এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়। এর মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে ড. অলি আহমদের নামে দুটি এবং বিএনপির পক্ষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে একটি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।
১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে তিনটিই বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে একই প্রার্থীর দুটি মনোনয়নপত্রের একটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হওয়ায় চূড়ান্তভাবে দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।
সিইসি জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যরা ভোটার হিসেবে ভোট দেবেন।
ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার পরপরই ভোট গণনা শুরু হবে। এরপর সিইসি নিজেই ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন। পুরো ভোট গণনা প্রক্রিয়া স্বচ্ছ থাকবে এবং ভোটগ্রহণ ও গণনার সময় সংসদ সদস্যরা কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
সিইসি আরও জানান, ব্যালট পত্রে ভোটার ও প্রার্থীদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। ফলে কে কোন প্রার্থীকে ভোট দিচ্ছেন, তা উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে প্রকাশ্য থাকবে। ভিআইপি ভোটারদের ভোটদান ও ফলাফল গণনার কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের দিন সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না বলেও জানান সিইসি। সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও বিধিমালা বজায় রাখার দায়িত্ব স্পিকারের ওপর ন্যস্ত রয়েছে।
এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত বা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের যে খবর ছড়িয়েছে, তা গুজব বলে উল্লেখ করেন সিইসি। তিনি জানান, সংসদের বৈঠক আহ্বানের মতো নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে ব্যালট ও স্টেশনারি বাবদ কমিশনের বড় কোনো অতিরিক্ত ব্যয় বা বিশেষ বাজেট তৈরি হয়নি।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলের নজর এই নির্বাচনের দিকে রয়েছে উল্লেখ করে সিইসি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে সক্ষম হবে।