মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বিএনপি নেতাকে ছিনিয়ে নিল গ্রামবাসী

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

যশোরের শার্শা উপজেলায় পুলিশ সদস্যকে মারধরের মামলার প্রধান আসামি ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতার করতে গিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার মুখে পড়েছে পুলিশ। মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয়দের জড়ো করার পর পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার শ্যামলাগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে থানা ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি যৌথ দল মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে তার এলাকায় অভিযান চালায়। বাড়ির সামনে একটি মোড় থেকে তাকে আটক করা হলে তার সমর্থকরা গ্রামের কয়েকটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে এলাকাবাসীকে সেখানে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান।

ঘোষণা শুনে কয়েকশ নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশকে ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে জনতার ভিড়ে আটক মোস্তফা কামাল মিন্টুকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাইকে বলা হয় যে মোস্তফা কামাল মিন্টুকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপরই স্থানীয়রা সেখানে জড়ো হয়ে পুলিশের অভিযানে বাধা দেন।

তবে মোস্তফা কামাল মিন্টুর সমর্থকদের দাবি, পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় তিনি জড়িত নন। তাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। কোনো বৈধ কাগজপত্র বা গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ তাকে আটক করতে গেলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানায়।

জানা গেছে, টুরিস্ট পুলিশের সদর দপ্তরে নায়েক পদে কর্মরত মামুন হাসান কোরবানির ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত ২৯ মে হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই মেহেদী হাসান রয়েল গত ৪ জুন শার্শা থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামলাগাছি গ্রামের একটি চায়ের দোকানের সামনে পূর্বশত্রুতার জেরে মামুন হাসানের পথরোধ করে অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন। এ মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে।

এদিকে হামলার ঘটনার পর মামুন হাসানের পরিবারের সদস্যরা হুমকি-ধমকির মুখে রয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, আসামিদের ভয়ে তারা নিজ বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না।

অভিযোগ অস্বীকার করে মোস্তফা কামাল মিন্টু বলেন, পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে পরিকল্পিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সুনির্দিষ্ট মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই পুলিশ তাকে আটক করতে গেলে এলাকাবাসী প্রতিবাদ জানায়।

অন্যদিকে শার্শা থানার ওসি মারুফ হোসেন বলেন, পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার প্রধান আসামি মোস্তফা কামাল মিন্টুকে গ্রেফতারের সময় জনতা মব সৃষ্টি করে তাকে ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970