নাটোরে হাসপাতালে শিশু রোগীর মাকে ধর্ষণের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিশু রোগীর মাকে ধর্ষণের অভিযোগে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ মশিউর রহমান। তিনি জানান, তদন্তের স্বার্থে কমিটির সদস্যদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। কমিটিতে স্বাস্থ্য বিভাগের বাইরের দুইজন কর্মকর্তা এবং হাসপাতালের একজন প্রতিনিধিকে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত রোববার রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি দুই বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মাকে ওষুধ দেওয়ার কথা বলে পরিচ্ছন্নতাকর্মী অমিত (২৩) লিফটে করে ছয়তলার সিঁড়িঘরে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এ সময় আরও দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী অনিল ও প্রাঙ্গণ ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ভুক্তভোগীকে আটকে রেখে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মায়ের অনুপস্থিতিতে শিশুটির কান্না শুনে রাত আনুমানিক ২টার দিকে হাসপাতালের আনসার সদস্যরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনাস্থলে যান এবং অভিযুক্তদের হাতেনাতে আটক করেন। তবে পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শহরের আলাইপুর এলাকার সুইপার কলোনির বাসিন্দা অমিত (২৩), অনিল (২৪) ও প্রাঙ্গণকে (২৩) গ্রেপ্তার করে।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনসুর রহমান জানান, ভুক্তভোগী নারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজও জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, শুরুতে বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং বর্তমানে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।