বোমা হামলায় মেসিকে উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, পুলিশের নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য
খেলাধুলা ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩১ পিএম
ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের একটি ফাঁস হওয়া নিরাপত্তা নথিতে বিশ্বকাপ চলাকালে তারকা ফুটবলার, ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রাণনাশের হুমকি ও আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনার উল্লেখ রয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিযোগিতা চলাকালে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ছিল আর্জেন্টিনা দল এবং তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসি। জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে জানান, তিনি আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রেনেড ও স্বয়ংক্রিয় রাইফেলসহ স্টেডিয়ামে হামলা চালাবেন। একই সঙ্গে তিনি সরাসরি মেসিকে হত্যার হুমকিও দেন।
একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তি দাবি করেন, তিনি শরীরে বিস্ফোরক বেঁধে আটলান্টার স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে মেসিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালাবেন। ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামের কয়েকটি ময়লার পাত্রে বোমা রাখা হয়েছে—এমন একটি ফোন পাওয়ার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় ব্যাপক তল্লাশি চালায়।
পর্তুগালের তারকা ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও ছিলেন সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুদের তালিকায়। প্রতিযোগিতা আয়োজকদের এক কর্মী জানান, এক রহস্যময় ব্যক্তি রোনালদোর অবস্থান ও হোটেল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। এ ছাড়া এক ব্যক্তি পুলিশের নজর এড়িয়ে রোনালদোর হোটেলের লিফটে ওঠার চেষ্টা করলে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র একটি ছবি তোলার উদ্দেশ্যেই সেখানে গিয়েছিলেন।
শুধু খেলোয়াড়ই নন, ম্যাচ পরিচালনাকারী কর্মকর্তারাও উগ্র সমর্থকদের হুমকির মুখে পড়েন। আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচে সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ারের কাছে ছয় হাজারের বেশি হুমকিমূলক বার্তা পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ভিডিও সহকারী রেফারি উইলি দেলাজোদকেও প্রাণনাশের হুমকি দেন ক্ষুব্ধ সমর্থকদের একটি অংশ।
ফাঁস হওয়া নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মাঠের পারফরম্যান্সের কারণেও কয়েকজন ফুটবলার মৃত্যুঝুঁকির মুখে পড়েন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নষ্ট করার পর নরওয়ের আলেকজান্ডার সরলথ এবং কলম্বিয়ার ঝন জামিনতন কাম্পাজকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় কাম্পাজ নিজ দেশের জাতীয় দলের সঙ্গে ফিরতেও রাজি হননি। ঘটনাটি ১৯৯৪ সালে আত্মঘাতী গোলের পর কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে পুরো প্রতিযোগিতাজুড়ে ছিল নজিরবিহীন সতর্কতা। ইংল্যান্ডের গণমাধ্যম কেন্দ্রকে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে ঘিরে রাখা হয়। স্থাপন করা হয় বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা, আর আকাশপথে অননুমোদিত চলাচল বন্ধ রাখতে ঘোষণা করা হয় উড্ডয়ন নিষিদ্ধ এলাকা। সব মিলিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ওই বিশ্বকাপ ছিল ইতিহাসের অন্যতম কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার অধীনে আয়োজিত একটি আসর।