ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১১ এএম
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এ ঘোষণা দেন।
ভাষণে তিনি বলেন, শোক দিবসে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে। পাশাপাশি শুক্রবার দেশের মসজিদ, মন্দিরসহ সব উপাসনালয়ে মরহুম হাদির আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, ওসমান হাদির স্ত্রী ও সন্তানদের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না বলেও তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
এর আগে, গুলিবিদ্ধ হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মারা যান শরিফ ওসমান হাদি। জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণাকালে গত ২০ ডিসেম্বর দুপুরে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। মাথা ভেদ করে গুলি বেরিয়ে যাওয়ায় তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তিনদিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, হামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তার সহযোগী মোটরসাইকেলচালক আলমগীর শেখ অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়েছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাব ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের বাবা-মা, স্ত্রী, শ্যালকসহ কয়েকজন সহযোগী।
উল্লেখ্য, গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রায় এক মাস আগে হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছিলেন ওসমান হাদি। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি দাবি করেন, দেশি-বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাকে ফোন ও মেসেজ দিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তবে জীবননাশের আশঙ্কা সত্ত্বেও তিনি ‘ইনসাফের লড়াই’ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন।