অবসর সুবিধার টাকা পেতে শিক্ষকদের আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষকদের নিজেদের প্রাপ্য অবসর সুবিধার টাকা পেতে ঘুষ দেওয়া কিংবা এক অফিস থেকে আরেক অফিসে ঘুরে হয়রানির শিকার হওয়া জাতি হিসেবে দেশের দীনতা-হীনতার প্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, ভবিষ্যতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে অনলাইনের মাধ্যমে তাদের প্রাপ্য অর্থ নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার।

শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, শিক্ষকরা নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শের শিক্ষা দিয়ে লাখো শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলেন। অথচ সেই শিক্ষকদেরই যদি নিজেদের প্রাপ্য টাকা তুলতে ঘুষ দিতে হয় কিংবা অফিসে অফিসে ঘুরে ভোগান্তি পোহাতে হয়, তাহলে তা শুধু শিক্ষকদের হয়রানি নয়; বরং জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতাই প্রকাশ করে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ২০২২ সালের পর দীর্ঘ চার বছর অপেক্ষা শেষে সরকারি দুটি তহবিলে জমানো অর্থের একটি অংশ ফেরত পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’—এই দুটি তহবিলে জমানো অর্থের উল্লেখযোগ্য অংশ পাওয়ায় ৭০ হাজারের বেশি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনে কিছুটা হলেও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে।

শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার চালু করা শিক্ষা উপবৃত্তি ও নারীদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগের কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ শিক্ষা বিস্তারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনুসরণীয় মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এ সময় তিনি মরহুমা খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনা করেন।

অবসর সুবিধার অর্থ পেতে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চাকরিজীবন শেষে অবসরে যাওয়ার পর নিজেদের প্রাপ্য অর্থ তুলতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। এমনকি প্রাপ্য টাকা পেতে ঘুষ দেওয়ার অলিখিত নিয়মও চালু হয়ে গিয়েছিল বলে মনে হয়েছে।

তবে বর্তমানে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইনের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য অর্থ তাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানোর ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, অবসর সুবিধার অর্থ শিক্ষকদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থা সহজে তৈরি করা সম্ভব হয়নি। পতিত, পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী সরকার ব্যাংক-বীমাসহ বিভিন্ন খাতে যেভাবে লুটপাট চালিয়েছিল, সেই লুটপাটের প্রভাব থেকে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের স্বার্থে গঠিত দুটি তহবিলও রেহাই পায়নি।

তিনি আরও বলেন, জাল ইনডেক্স তৈরি, লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করতে শিক্ষকদের কল্যাণ তহবিলের অর্থ দুর্বল ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে তহবিল দুটিকে প্রায় দেউলিয়া করে ফেলা হয়েছিল।

এসব কারণে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রাপ্য অর্থ সহজে পৌঁছে দেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা কঠিন ছিল বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এরপরও অনলাইনের মাধ্যমে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই তাদের প্রাপ্য অর্থ নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে পাঠানো সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970