মাত্র ১০ মাসে কোরআনের হাফেজ ৯ বছরের আরহাম
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম
মাত্র ১০ মাসে পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা হেফজ সম্পন্ন করে অনন্য কৃতিত্ব দেখিয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ৯ বছরের শিশু আরহাম ভূঁইয়া। তার এ অসাধারণ সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
আরহাম মিরসরাই উপজেলার ১৩ নম্বর মায়ানী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মায়ানী গ্রামের গণি ভূঁইয়া বাড়ির বাসিন্দা ওহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার একমাত্র ছেলে। সে স্থানীয় দারুণ নাজাত আইডিয়াল মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর হেফজ শিক্ষা শুরু করে আরহাম। এরপর চলতি বছরের ৩০ জুন মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই পবিত্র কোরআনের সম্পূর্ণ ৩০ পারা মুখস্থ শেষ করে। যেখানে একজন শিক্ষার্থী সাধারণত প্রতিদিন ১ থেকে ২ পৃষ্ঠা নতুন পাঠ প্রস্তুত করে, সেখানে আরহাম নিয়মিত ৪ থেকে ৭ পৃষ্ঠা পর্যন্ত প্রস্তুত করে শিক্ষকদের শুনাত। তার অসাধারণ মেধা, অধ্যবসায়, একাগ্রতা এবং শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানেই এ সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
দারুণ নাজাত আইডিয়াল মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা শোয়াইব বলেন, আরহামের এ অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রমেরও একটি গর্বের দৃষ্টান্ত।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মাদ্রাসাটি দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষার মানসম্মত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে। এখানে হেফজ শিক্ষার পাশাপাশি শুদ্ধ তিলাওয়াত, উত্তম চরিত্র গঠন, ইসলামী আদর্শ এবং আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে পাঠদান করা হয়। ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক ও পর্দাসম্মত পরিবেশে শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমানে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের ক্বারী ও হাফেজদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। চলতি বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে আরও ১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীর হেফজ সম্পন্ন করার আশা করা হচ্ছে।
মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সহ-সভাপতি ডা. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সফলভাবে দুই বছর অতিক্রম করে প্রতিষ্ঠানটি তৃতীয় বছরে পদার্পণ করেছে। সবার সহযোগিতা ও দোয়া অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আরহাম ভূঁইয়া বলে, আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে সে অল্প সময়ে কোরআনের হেফজ সম্পন্ন করতে পেরেছে। ভবিষ্যতে একজন হক্কানি আলেম হয়ে সারাজীবন কোরআনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চায়। এ জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছে সে।
আরহামের বাবা ওহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ছোটবেলা থেকেই ছেলেকে কোরআনের পথে গড়ে তোলার স্বপ্ন ছিল। আল্লাহ তাআলা সেই আশা পূরণ করেছেন। এ সাফল্যের জন্য তিনি মাদ্রাসার পরিচালক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ছেলেকে একজন যোগ্য আলেম হিসেবে সমাজে কোরআন-সুন্নাহর আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশার কথাও জানান।
আরহামের শিক্ষক হাফেজ মাওলানা কেফায়েত উল্ল্যাহ বলেন, আরহাম অত্যন্ত মেধাবী, মনোযোগী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। শুরু থেকেই সে অন্যদের তুলনায় বেশি নতুন পাঠ প্রস্তুত করত। তার নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ অনুগ্রহেই এত অল্প সময়ে হেফজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।