সিলেটে শিশু ফাহিমা ধর্ষণ-হত্যা মামলায় প্রধান আসামির মৃত্যুদণ্ড, দুই ভাই খালাস
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম
সিলেটের বহুল আলোচিত শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে। তবে মামলার অপর দুই আসামি জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার মাত্র তিন মাসের মধ্যে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে এই রায় দেওয়া হলো।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। এতে চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তারকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে জাকির হোসেনকে প্রধান আসামি এবং মরদেহ গোপনে সরিয়ে ফেলতে সহযোগিতার অভিযোগে তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়।
নিহত ফাহিমা আক্তার সিলেট সদর উপজেলার কান্দিরগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। দণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেন একই গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে।
মামলার তথ্যমতে, গত ৬ মে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। দুই দিন পর, ৮ মে রাতে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে লাগেজের ভেতরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, শিশুটিকে ২০ টাকা দিয়ে সিগারেট আনতে পাঠানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় জাকির। একপর্যায়ে গলা টিপে হত্যা করার পর মরদেহ লাগেজে ভরে গোপন করার চেষ্টা করে। সুযোগ না পেয়ে বাড়ির পাশের ডোবায় লাগেজটি ফেলে রাখে। পরে সেটি ভেসে উঠলে স্থানীয়দের নজরে আসে এবং পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এরপর ১১ মে রাতে জাকির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারের পর জাকির পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে শিশু ফাহিমাকে হত্যা এবং মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে।
তদন্তে আরও জানা যায়, ফাহিমা নিখোঁজ হওয়ার পর আয়োজিত মানববন্ধনেও জাকিরের ভাই অংশ নিয়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছিলেন। তবে তদন্ত শেষে জাকিরকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বিচার শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। অপর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের যথেষ্ট প্রমাণ না পাওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।