জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থানীয় সময় সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে তুর্কি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। পরে তাকে নিউইয়র্কের একটি হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।
এর আগে সোমবার সকালে স্ত্রী ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে প্রায় আড়াই ঘণ্টা যাত্রাবিরতির পর নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হলো ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটিই তার প্রথম ভাষণ।
আজ ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। সকালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে দেওয়া স্বাগত প্রাতরাশে অংশ নেবেন তিনি। এরপর সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগ দেবেন। সন্ধ্যায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আয়োজনে রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে দেওয়া অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
সফরকালে কয়েকটি দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন ও ন্যায্য রূপান্তরবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। একই দিনে ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিনে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীসেবা নিয়ে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানেও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। এরপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকটের মতো বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
সফরের শেষ দিনে ২৫ সেপ্টেম্বর ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। একই দিন যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন তিনি। এরপর স্থানীয় সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তার।