ছাত্রীদের গোপনে ভিডিও করতেন শিক্ষক, দেখতে চান টপ আর জিন্সে
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালিত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি, গোপনে ভিডিও ধারণ এবং অশালীন আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই শিক্ষক ছাত্রীদের পোশাক নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন এবং হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের জিন্স ও টপস পরা অবস্থায় দেখতে চান বলে ইঙ্গিত দিতেন। পাশাপাশি স্কুল ক্যাম্পাসে ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে কথা বলতে দেখলে তিনি ভিডিও করে রাখতেন এবং তা অধ্যক্ষ ও অভিভাবকদের পাঠানোর হুমকি দিতেন।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম বরুণ কুমার সাহা। তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এমন আচরণ করে আসছেন। একাধিক ছাত্রী গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ক্লাসে তিনি ব্যক্তিগত মন্তব্য করতেন এবং শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতেন।
এক ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষক একবার তাকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন যে তিনি ২০ বছর পর জিন্স ও টপস পরে এলে তাকে চেনা যাবে না। আরেক শিক্ষার্থী জানান, ছেলে ও মেয়েদের স্বাভাবিক কথোপকথনকেও তিনি প্রেমের সম্পর্ক হিসেবে উপস্থাপন করতেন এবং অনেক সময় গোপনে ভিডিও করতেন।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, খেলাধুলার সময় তোলা ভিডিও দেখিয়ে তাকে অভিভাবকের কাছে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক বরুণ কুমার সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিল উদ্দীন জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা পড়েছে, যা শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, তদন্ত কমিটির কিছু সদস্য বাইরে থাকায় কাজ কিছুটা বিলম্ব হয়েছে, তবে দ্রুত চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।