চুক্তি অনুযায়ী ইরান কোনোদিন পরামাণু অস্ত্র পাবে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ১১:১৭ এএম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ও শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনার সময় কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, কোনো চুক্তির অধীনেই ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে সতর্ক করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে তেহরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোয়, তাহলে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, আলোচনায় বিভিন্ন বিষয় থাকলেও তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে না পারে। তার দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির ভাষাতেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে এবং এ অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসবে না।
তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। সম্ভাব্য এই সমঝোতার মাধ্যমে সেই কর্মসূচিকে স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
ট্রাম্পের দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো কার্যত ধ্বংস হয়েছে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতও আগের অবস্থায় নেই। তবে তিনি মনে করেন, শুধু সামরিক চাপ নয়, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও যাচাইযোগ্য প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদে ইরানের সক্ষমতা সীমিত রাখা সম্ভব।
অন্যদিকে ইরান আবারও জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। তেহরানের দাবি, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার প্রয়োজনেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রাথমিক খসড়া আগামী শুক্রবারের আগেই প্রকাশ করা হতে পারে। তার ভাষ্য, নথিটি খুব বড় না হলেও ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কাঠামো নির্ধারণ করবে এবং মূল বিষয়গুলোতে ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
ভ্যান্স আরও বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির আওতায় আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরিদর্শকদের আবারও ইরানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতায় উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনার নতুন কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে অর্থনৈতিক সুবিধা ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ও পর্যালোচনা করা হবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, আলোচনায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত এই জলপথে স্থিতিশীলতা ফিরলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন পশ্চিমা কর্মকর্তারা।
এদিকে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে অর্থ ব্যয় করতে আগ্রহী নয়। সম্ভাব্য যেকোনো অর্থনৈতিক সুবিধা পুরোপুরি নির্ভর করবে ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর। একই সঙ্গে তিনি লেবাননে ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়েও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
বিশ্লেষকদের ধারণা, কয়েক মাসের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান এই আলোচনা সফল হলে তা শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।