১৬ আগস্ট উদ্বোধন হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, চার বছরে সুবিধা পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর আগামী ১৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করতে যাচ্ছে সরকার। পর্যায়ক্রমে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নিয়মিত তথ্য হালনাগাদের মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছে সরকার।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ফ্যামিলি কার্ডসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

তিনি জানান, ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। এরপর অক্টোবরের শেষ নাগাদ ধাপে ধাপে দেশের সব উপজেলা ও ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম চালু করা হবে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, দেশের ৫৬টি এলাকায় পরিচালিত পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। যশোর ও নেত্রকোনার দুটি এলাকায় তথ্য সংগ্রহে কিছু জটিলতা দেখা দিলেও তা সমাধান করা হয়েছে। বাকি ৫৪টি এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং ত্রুটির হার ৩ শতাংশেরও কম ছিল।

তিনি আরও জানান, ১৬ আগস্ট থেকে নতুন প্রশ্নমালা ও আধুনিক পদ্ধতিতে পুরোপুরি অনলাইনে তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর প্রতি মাসে তথ্য হালনাগাদ করা হবে, যাতে মৃত্যু, আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন বা অন্য কোনো তথ্য দ্রুত নিবন্ধনে যুক্ত করা যায়।

কর্মসূচির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তারা তথ্য সংগ্রহ তদারকি করবেন। উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে, জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে এবং বিভাগীয় পর্যায়ে বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পৃথক কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। জাতীয় পর্যায়ে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বেও একটি কমিটি থাকবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিয়মিত কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করবেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড একটি গতিশীল সামাজিক নিবন্ধন ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হবে। মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তথ্য নিয়মিত হালনাগাদ করা হবে। ফলে কেউ দারিদ্র্য থেকে উন্নত অবস্থায় গেলে কিংবা পুনরায় দরিদ্র হলে সেটিও নিবন্ধনে প্রতিফলিত হবে।

তিনি বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যাতে বাদ না পড়েন এবং অযোগ্য কেউ যাতে তালিকাভুক্ত হতে না পারেন, সে জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। ভাতা ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে বিদ্যমান দুর্বলতা দূর করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, ধর্ম, গোত্র বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে সুবিধা দেওয়া বা বঞ্চিত করার সুযোগ থাকবে না। অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়েই এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

তিনি জানান, পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছালে তা শিশুদের শিক্ষা, পুষ্টি, স্বাস্থ্যসেবা, হাঁস-মুরগি পালন, গাছ লাগানো, কুটির শিল্প, সেলাই এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা কার্যক্রমে বেশি কাজে লাগবে। এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি গ্রামীণ দারিদ্র্য হ্রাসেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970