যুবদল নেতার ভয়ে কর্মস্থলে যান না সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩২ এএম

ছবি: সংগৃহীত

পাবনার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রাণীকে টেন্ডার বাতিলের জন্য চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ওই চিকিৎসক। এমনকি ভয়ে বর্তমানে কর্মস্থলেও যাচ্ছেন না তিনি।

গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ ঘটনা ঘটে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু। তার দাবি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। কাউকে হুমকি দেওয়া হয়নি।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রাণী জানান, গত ১০ সেপ্টেম্বর ইজিপি প্রক্রিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর খাতের ছয়টি প্যাকেজে ৮০ লাখ ৭৬ হাজার টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং ইজিপি নীতিমালা অনুসরণ করে অনলাইনে দরপত্র মূল্যায়ন করা হয়। পরে গত ২ নভেম্বর চারটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। তবে স্থানীয় কয়েকজন নেতা দরপত্রের শর্ত কঠিন হয়েছে দাবি করে তা বাতিলের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার কনফারেন্স রুমে সভায় ব্যস্ত থাকার সময় হঠাৎ সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে আট থেকে দশজনের একটি দল তার দাপ্তরিক কক্ষের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। একই সঙ্গে সিসিটিভি ক্যামেরার অবস্থান ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা কক্ষে প্রবেশ করে দরজার ছিটকিনি লাগিয়ে দরপত্র বাতিলের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

ডা. সুপ্রভা রাণী বলেন, তাকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পুনরায় দরপত্র আহ্বানের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং অফিসের বাইরে দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা করছেন। এ কারণে আপাতত অফিসে যাচ্ছেন না। বিষয়টি মৌখিকভাবে স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি পাবনার সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ওয়াসিম খান বলেন, যারা দরপত্রের কাজ পাননি, তারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করছিলেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন। পরে তার কক্ষে গিয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা উল্টানো অবস্থায় দেখতে পান। কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক এমনটি করে থাকতে পারে। পরে তিনি থানায় খবর দিলে পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে আসেন।

দরপত্র প্রক্রিয়া নিয়ে ডা. ওয়াসিম খান বলেন, তিনি দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য হলেও পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো যেত। তবে হাসপাতালে এভাবে চিৎকার-চেঁচামেচি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে সুজানগর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু বলেন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। বৈধ ঠিকাদারি লাইসেন্স থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় কাউকে কাজ না দিয়ে গোপনে ঝিনাইদহ জেলা থেকে লোক এনে কমিটি করা হয়েছে। পাশাপাশি দরপত্রে বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

তার অভিযোগ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার যোগসাজশে তার স্বামীর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিক সুবিধা দিতেই এ অনিয়ম করা হয়েছে। তারা শুধু নিয়মের বিষয়টি জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন। কাউকে অবরুদ্ধ করা বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। নিজের দুর্নীতি আড়াল করতেই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন বলে দাবি করেন তিনি।

পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, সুজানগরে নিয়ম মেনেই দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানেন। সম্প্রতি দরপত্রের কাজ না পেলে বিভিন্ন দপ্তরে এ ধরনের হেনস্তা ও হয়রানিমূলক আচরণের ঘটনা ঘটছে। এর আগে নিজেও এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, আপাতত ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে কয়েক দিন নিরাপদে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তিনি সেখানে যান। গিয়ে কয়েকজনকে দেখতে পান। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে, এমন কোনো অভিযোগ তিনি তখন পাননি। পরে নামাজ পড়তে যাওয়ার পর জানতে পারেন, ওই কর্মকর্তা হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970