নতুন মহামারির শঙ্কা, কড়া সতর্কবার্তা ডব্লিউএইচওর

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো ও উগান্ডায় ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে ইবোলা ভাইরাস। পরিস্থিতিকে ‘জনস্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বিবেচনা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি সতর্ক করেছে, এই প্রাদুর্ভাবকে অবমূল্যায়ন করলে তা নতুন বৈশ্বিক মহামারিতে রূপ নিতে পারে।

বর্তমানে বন্যপ্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস দ্রুত সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ কিংবা দূষিত বস্তুর সংস্পর্শে এলে অন্যরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। এখন পর্যন্ত আফ্রিকায় প্রায় ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬০০।

ইবোলার আতঙ্কে সতর্কতা জারি করেছে ভারতও। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ আফ্রিকান দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের জন্য স্ক্রিনিং ও কোয়ারেন্টাইন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিছু আন্তর্জাতিক সম্মেলনও স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) জেনেভায় ডব্লিউএইচও সদর দপ্তরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ ইয়াকুব জানাবি বলেন, মাত্র একটি ঘটনাই কঙ্গো ও উগান্ডার বাইরে ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিতে পারে।

তিনি বলেন, ইবোলার বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে হালকাভাবে নেওয়া বড় ধরনের ভুল হবে। বিশেষ করে ‘বুন্দিবুগিও’ স্ট্রেইনের এই ভাইরাসের কোনো টিকা এখনও নেই। তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার আহ্বান জানান তিনি।

ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, চলতি মাসে হান্টাভাইরাস প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি বৈশ্বিক মনোযোগ পেলেও কঙ্গোতে ইবোলার ঝুঁকি কম নয়। ইঁদুরবাহিত হান্টাভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৩টি দেশের প্রমোদতরির যাত্রীরা আক্রান্ত হয়েছেন। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঙ্গো ও উগান্ডাকে জরুরি অপারেশন সেন্টার চালুর পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। আক্রান্তদের শনাক্ত করা, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং নজরদারি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, নিশ্চিত রোগীদের দ্রুত আইসোলেশনে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে। অন্তত ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে করা দুটি পরীক্ষায় নেগেটিভ ফল না আসা পর্যন্ত রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া যাবে না।

এদিকে সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে সতর্ক নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক ভ্রমণ বা বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

১৯৭৬ সালে বর্তমান কঙ্গোতেই প্রথম ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাসটি ছড়িয়েছিল। এটি দেশটিতে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব।

ইবোলার প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশিব্যথা, ক্লান্তি ও গলাব্যথা। পরে বমি, ডায়রিয়া, ত্বকে ফুসকুড়ি এবং তীব্র রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে। এই রোগে মৃত্যুর হার প্রায় ৫০ শতাংশ বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আফ্রিকা সিডিসির নির্বাহী পরিচালক ডক্টর জিন কাসেয়া জানিয়েছেন, ঘনবসতিপূর্ণ খনি এলাকায় মানুষের ব্যাপক চলাচলের কারণে আঞ্চলিক সমন্বয় ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হবে।

গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় ইবোলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ থেকে ২০২০ সালে কঙ্গোতে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন মারা যান। গত বছরও দেশটির এক অঞ্চলে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970