দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু, এভারেস্টে অতিরিক্ত ভিড় নিয়ে সতর্কতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম
বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টে অতিরিক্ত ভিড় ও অনভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। চলতি মৌসুমে রেকর্ডসংখ্যক আরোহনের মধ্যেই দুই ভারতীয় পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে অভিজ্ঞ শেরপারা সতর্ক করে বলেছেন, নিয়ন্ত্রণহীন ভিড় ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
বিশ্বের সর্বোচ্চ ১০টি পর্বতের মধ্যে আটটির অবস্থান নেপালে। প্রতি বছর বসন্ত মৌসুমে শত শত অভিযাত্রী এভারেস্ট জয়ের উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভিড় করেন। তবে এবার আরোহনের পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে। এখন পর্যন্ত চলতি মৌসুমে অন্তত পাঁচজন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন ভারতীয় ও তিনজন নেপালি। এছাড়া চলতি মাসের শুরুতে মাকালু পর্বতে এক মার্কিন ও এক চেক পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পাইওনিয়ার অ্যাডভেঞ্চার্সের পরিচালক নিবেশ কার্কি জানান, নিহত দুই ভারতীয় পর্বতারোহী হলেন সন্দীপ আরে ও অরুণ কুমার তিওয়ারি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দীপ আরে ২০ মে এবং অরুণ কুমার তিওয়ারি ২১ মে এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। তবে নিচে নামার সময় উচ্চতাজনিত শারীরিক জটিলতায় তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।
নিবেশ কার্কি বলেন, উচ্চতাজনিত অসুস্থতার কারণে তারা নামার পথে মারাত্মক সমস্যায় পড়েন। বর্তমানে তাদের মরদেহ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে চলতি মাসেই এভারেস্টে রেকর্ড ৩২তম আরোহনের কৃতিত্ব গড়া নেপালি পর্বতারোহী কামি রিতা শেরপা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার রাজধানী কাঠমান্ডুতে ফিরে তিনি বলেন, এবারের অভিযান ছিল অত্যন্ত ভিড়পূর্ণ।
‘এভারেস্ট ম্যান’ নামে পরিচিত এই কিংবদন্তি শেরপার মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ছবিতে দেখা গেছে, বরফাচ্ছন্ন ও অক্সিজেনস্বল্প উচ্চাঞ্চলে নির্দিষ্ট রশি ধরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন আরোহীরা।
তিনি বলেন, সরকারের উচিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং শুধুমাত্র দক্ষ ও যোগ্য পর্বতারোহীদের অনুমতি দেওয়া। এ ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নেপালের পর্যটন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটির দিক থেকে একদিনে প্রাথমিকভাবে ২৭৫ জন আরোহী এভারেস্টের ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার চূড়ায় পৌঁছেছেন। যাচাই-বাছাই শেষে এ সংখ্যা আরও পরিবর্তন হতে পারে।
এভারেস্টে আরোহনের দুটি প্রধান পথ রয়েছে— নেপালের দক্ষিণ দিক ও তিব্বতের উত্তর দিক। তবে চলতি বছর চীন তিব্বত অংশের পথ বন্ধ রাখায় প্রায় সব আরোহীকেই নেপালের দিক ব্যবহার করতে হচ্ছে। ফলে দক্ষিণ দিকের রুটে চাপ আরও বেড়েছে।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের মে মাসে একদিনে সর্বোচ্চ ৩৫৪ জন আরোহী এভারেস্ট জয় করেছিলেন।
এদিকে শুক্রবার সফল আরোহীদের মধ্যে ছিলেন ব্রিটিশ পর্বতারোহী ও গাইড কেন্টন কুল। তিনি ২০তম বারের মতো এভারেস্ট জয় করে নেপালি নন— এমন পর্বতারোহীদের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এভারেস্টে নিরাপত্তা ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষ করে খারাপ আবহাওয়া বা সীমিত সময়ের মধ্যে আরোহনের চাপ থাকলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
চলতি মৌসুমে বিদেশিদের জন্য রেকর্ড ৪৯২টি এভারেস্ট পারমিট দিয়েছে নেপাল সরকার। এর ফলে পর্বতের পাদদেশে তৈরি হয়েছে বিশাল তাঁবুর নগরী, যেখানে অবস্থান করছেন আরোহী, গাইড ও সহায়ক কর্মীরা।
এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া চলতি বসন্তকালীন মৌসুমে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জন গাইডসহ এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছেছেন। সূত্র: আল-জাজিরা।