ভারত মহাসাগরে ‘বিশাল স্টারশিপ’ বিধ্বস্তে বিস্ফোরণ, তবুও সফলতার দাবি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ১১:৪২ পিএম
মার্কিন ধনকুবের ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের তৈরি বিশালাকৃতির মহাকাশযান ‘স্টারশিপ’ পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের পর ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে। অবতরণের সময় এতে আগুন ধরে বিস্ফোরণ ঘটলেও পরীক্ষাটিকে সফল বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার পর স্টারশিপ রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়। এটি ছিল স্টারশিপের তৃতীয় প্রজন্মের সংস্করণের প্রথম বড় পরীক্ষা। লাইভ সম্প্রচারে দেখা যায়, মহাকাশযানটি পরিকল্পনা অনুযায়ী মহাকাশে পৌঁছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
পরবর্তীতে ভারত মহাসাগরে নিয়ন্ত্রিত অবতরণের সময় মহাকাশযানটিতে আগুন ধরে যায় এবং বিস্ফোরণ ঘটে। তবে স্পেসএক্স জানিয়েছে, পরীক্ষার অংশ হিসেবেই এমন নিয়ন্ত্রিত অবতরণের পরিকল্পনা ছিল। প্রতিষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল নতুন নকশা ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কার্যকারিতা যাচাই করা।
পরীক্ষার সময় স্টারশিপ একটি জটিল কৌশল সফলভাবে সম্পন্ন করে। এতে মহাকাশযানটি উল্টো অবস্থান থেকে পুনরায় সোজা হয়ে ইঞ্জিন চালু করে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায়। যদিও একটি ইঞ্জিন কাজ করেনি, তবুও বাকি ইঞ্জিনের সহায়তায় যানটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।
লাইভস্ট্রিমে দেখা যায়, পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন শেষে স্পেসএক্সের কর্মীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘স্প্ল্যাশডাউন নিশ্চিত করা হয়েছে।’
এ ছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে ২২টি ডামি কৃত্রিম উপগ্রহও মহাকাশে পাঠানো হয়। এর মধ্যে দুটি উপগ্রহ স্টারশিপের তাপরক্ষাকারী স্তরের ছবি তোলার চেষ্টা করে। তবে একটি ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় মহাকাশযানটি পুরোপুরি নির্ধারিত কক্ষপথে প্রবেশ করতে পারেনি।
স্পেসএক্সের মুখপাত্র ড্যান হুওট বলেন, এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক কক্ষপথ না হলেও নির্ধারিত সীমার মধ্যেই ছিল।
অন্যদিকে সুপার হেভি বুস্টারটি মূল মহাকাশযান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত ‘বুস্ট-ব্যাক বার্ন’ সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়। ফলে সেটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দ্রুত মেক্সিকো উপসাগরে পড়ে যায়।
পরীক্ষা শেষে ইলন মাস্ক সামাজিক মাধ্যমে নিজের দলকে অভিনন্দন জানিয়ে এই ফ্লাইটকে ‘মহাকাব্যিক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন, ‘তোমরা মানবজাতির জন্য একটি গোল করেছ।’
এর আগের দিন একই পরীক্ষা চালানোর চেষ্টা করা হলেও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয়। পরে ইলন মাস্ক জানান, উৎক্ষেপণ টাওয়ারের একটি হাইড্রোলিক পিনে সমস্যা থাকায় এমনটি হয়েছিল। পরে সেটি দ্রুত মেরামত করা হয়।
এটি ছিল স্টারশিপের ১২তম ফ্লাইট এবং গত সাত মাসের মধ্যে প্রথম উড্ডয়ন। নতুন সংস্করণের স্টারশিপ আগের তুলনায় আরও বড়, যার পূর্ণ উচ্চতা প্রায় ৪০৭ ফুট বা ১২৪ মিটার।
স্টারশিপ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস’ চন্দ্রাভিযান কর্মসূচিও। ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষ পাঠাতে স্টারশিপের পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যবহার করতে চায় নাসা।