স্ত্রী-মেয়েকে হত্যা করে ঘরেই মাটিচাপা, অন্য নারীকে নিয়ে সেখানেই ৭ মাস বসবাস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
ভারতের গুজরাটের মেহসানা জেলায় স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যা করে ঘরের মাটির নিচে পুঁতে রাখার ভয়াবহ ঘটনা সামনে এসেছে। পরে একই বাড়িতে অন্য এক নারীকে নিয়ে প্রায় সাত মাস বসবাসও করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার পর তার লেখা চিঠি থেকেই পুরো ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়।
গত ৪ মে মেহসানার একটি সরকারি হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেন ৩০ বছর বয়সী গিরিশ। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের তল্লাশি চালায়। এ সময় তার পকেট থেকে একটি চিঠি উদ্ধার করা হয়।
চিঠিতে গিরিশ উল্লেখ করেন, প্রায় সাত মাস আগে তিনি তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও দুই বছর বয়সী মেয়ে পরীকে হত্যা করেছেন। একই সঙ্গে কোথায় তাদের মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছে, সেটিও লিখে যান।
পরে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ গিরিশের বাড়িতে অভিযান চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টা অনুসন্ধানের পর বাড়ির একটি নির্দিষ্ট স্থান খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর গিরিশ তাদের মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে ওপরে সিমেন্টের প্লাস্টার করে দেন। এরপর দীর্ঘ সাত মাস অন্য এক নারীকে নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করেন। এমনকি যেখানেই মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছিল, সেই স্থানেই নিয়মিত বসে খাওয়া-দাওয়া করতেন তিনি।
মেহসানা জেলার শাহপুর গ্রামের নির্জন এলাকায় পরিবারটি বসবাস করত। বাড়িটির আশপাশে অন্য কোনো বাড়ি ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানান, চার বছর আগে গিরিশ ও প্রিয়াঙ্কা আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন। তারা একসময় সহপাঠী ছিলেন এবং সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুরুতে দুই পরিবার বিয়ে মেনে না নিলেও পরে তা স্বীকার করে নেয়।
গিরিশ স্থানীয় একটি কারখানার ডায়মন্ড পলিশ বিভাগে কাজ করতেন। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কাও একটি হাসপাতালে চাকরি করতেন। বিয়ের এক বছর পর তাদের যমজ কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। পরে সংসারে আর্থিক চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম্পত্য কলহও বাড়তে থাকে বলে জানিয়েছে পরিবার।
প্রিয়াঙ্কার দাদা রমনভাই যোগী জানান, মেয়েদের জন্মের পর থেকেই গিরিশ প্রায়ই প্রিয়াঙ্কাকে অপমান করতেন। প্রিয়াঙ্কা নিয়মিত ফোন করে পারিবারিক সমস্যার কথা জানাতেন।
তার ভাষ্য, ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর প্রিয়াঙ্কা তাকে শেষবার ফোন করেছিলেন। এরপর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন গিরিশ ফোন করে দাবি করেন, প্রিয়াঙ্কা মেয়ে পরীকে নিয়ে কোথাও চলে গেছেন।
এদিকে অন্য যমজ মেয়ে চাহাত গিরিশের কাছেই ছিল। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলেও তখন পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করা হয়নি। পরে চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল প্রিয়াঙ্কা ও তার মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানায়, অভিযোগের পর গিরিশকে দুবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। তদন্তের একপর্যায়ে তাকে বোনকে সঙ্গে নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়। তবে থানায় আসার আগেই তিনি হাসপাতালের ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেন।
পুলিশের দাবি, বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া হাড়ের নমুনা পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, সেগুলো প্রিয়াঙ্কা ও তার মেয়ে পরীর মরদেহের অংশ।