আফগানিস্তানে বাল্যবিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দিচ্ছে তালেবান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ১০:২৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে নতুন এক আইনকে ঘিরে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, তালেবান সরকার প্রথমবারের মতো কার্যত বাল্যবিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পথে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে এই আইন নারীদের বিবাহবিচ্ছেদের অধিকারও সীমিত করে দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালেবান সরকারের অনুমোদিত নতুন বিবাহবিচ্ছেদ আইন মেয়েশিশু ও তরুণীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। মানবাধিকারকর্মীদের ভাষ্য, কোনো নারী যদি পরে দাবি করেন যে তাকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাহলে স্বামীর আপত্তির মুখে তার বিচ্ছেদের আবেদন কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আফগানিস্তানে জোরপূর্বক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ের নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য না থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ১১ বছর বয়সের পর মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে বলে দাবি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর।

একটি বেসরকারি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, তালেবান মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সীমিত করার পর প্রায় ৭০ শতাংশ মেয়েকে অল্প বয়সে কিংবা জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশ মেয়ের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে।

নতুন আইনে আরও বলা হয়েছে, শুধুমাত্র স্বামীর অনুপস্থিতি বা আর্থিক সহায়তা না পাওয়াকে কারণ দেখিয়ে কোনো নারী বিচ্ছেদ চাইতে পারবেন না। এ কারণে আইনটিকে নারীর অধিকারবিরোধী বলে সমালোচনা করছেন অধিকারকর্মীরা।

চলতি সপ্তাহে রাজধানী কাবুলে এই আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন নারী অধিকার সংগঠন আইনটিকে নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে ‘প্রাতিষ্ঠানিক সহিংসতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

মানবাধিকারকর্মী ফাতিমা বলেন, নারীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক নির্দেশনার পর এখন তালেবান আনুষ্ঠানিক আইনি কাঠামোর মাধ্যমেই বাল্যবিবাহকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। তার অভিযোগ, জনগণের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবর্তে সরকার নারীবিদ্বেষী নীতি বাস্তবায়নে ব্যস্ত।

এদিকে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহায়তা মিশন ইউএনএএমএও আইনটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মতে, এই ডিক্রি আফগান নারী ও কন্যাশিশুদের অধিকার আরও সংকুচিত করবে এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।

ইউএনএএমএ কর্মকর্তা জর্জেট গ্যাগনন বলেন, নতুন আইনটি এমন এক ধারাবাহিকতার অংশ যেখানে আফগান নারী ও মেয়েদের স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের অধিকার ক্রমাগত সীমিত হয়ে পড়ছে।

তবে তালেবান সরকারের এক মুখপাত্র এসব সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তালেবান নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে তিনি বলেন, ইসলাম ও ইসলামী ব্যবস্থার বিরোধিতাকারীদের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

আফগানিস্তান হিউম্যান রাইটস সেন্টারের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে বাল্যবিবাহের শিকার অধিকাংশ নারী গৃহস্থালি সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের মুখোমুখি হচ্ছেন।

চলতি মাসের শুরুতে মধ্য আফগানিস্তানের দায়কুন্দি প্রদেশে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী স্বামীর নির্যাতনে নিহত হয়। পরিবারের দাবি, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছিল।

আফগানিস্তান ইন্ডিপেনডেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশনের আবদুল আহাদ ফারজাম বলেন, তালেবানের নতুন আইন বাল্যবিবাহকে বৈধতা দিচ্ছে এবং নারীদের স্বাধীন সম্মতির অধিকারকে সীমিত করছে। তার মতে, এটি পুরুষতান্ত্রিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করছে এবং নারীদের আইনের চোখে অসম অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970