ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকার দাবি গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্ট

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২১ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

হিন্দু দায়ভাগা আইন অনুযায়ী ভাইয়ের সম্পত্তিতে কোনো বোন উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বত্ব দাবি করতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত একটি দেওয়ানি রিভিশন আবেদন খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রেখেছেন উচ্চ আদালত।

গত ৯ জুলাই বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

‘অমর কুমার দাসের উত্তরাধিকারী লিলি রানী দাস ও অন্যান্য বনাম ড. মনোরঞ্জন মহুরী ও অন্যান্য’ মামলায় এ রায় দেওয়া হয়। বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলাম মূল রায়টি লেখেন। রিভিশন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সমীরণ দাস গুপ্ত এবং বিবাদীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, হিন্দু দায়ভাগা আইনে ভাইয়ের বিধবা স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় ভাইয়ের সম্পত্তিতে বোনের উত্তরাধিকারী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর বিধবা স্ত্রী ওই সম্পত্তির অধিকারী হন। সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে তাঁর ক্ষমতা সীমিত হলেও তিনি কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর করলে তা চ্যালেঞ্জ করার অধিকার সবার নেই।

হাইকোর্ট আরও বলেন, বিধবার মৃত্যুর পর যিনি ওই সম্পত্তির প্রকৃত পরবর্তী উত্তরাধিকারী হওয়ার আইনগত যোগ্যতা রাখেন, কেবল তিনিই বিধবার করা হস্তান্তরের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবেন। সম্পত্তিতে বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কোনো আইনগত স্বার্থ নেই—এমন ব্যক্তি ‘আইনগত প্রয়োজনে হস্তান্তর করা হয়নি’ এমন যুক্তিতে আদালতে মামলা করার অধিকার রাখেন না।

মামলার নথি অনুযায়ী, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার রামকান্ত বিশ্বাস ১৯২০ সালে নিজ অর্থে তাঁর ছেলে সতীশ চন্দ্র বিশ্বাসের নামে ১ দশমিক ৩৫ একর জমি কেনেন। রামকান্ত বিশ্বাস জীবিত থাকতেই সতীশ মারা যান। পরে ১৯৩৩ সালে রামকান্ত বিশ্বাসও মারা যান।

এরপর সতীশের স্ত্রী সাবিত্রী বালা ১৯৯৬ সালে ওই জমি ড. মনোরঞ্জন মহুরীর কাছে বিক্রি করেন। তবে ওই বিক্রয় দলিলকে জাল ও প্রতারণামূলক দাবি করে ১৯৯৮ সালে পটিয়ার আদালতে উত্তরাধিকার স্বত্ব চেয়ে মামলা করেন রামকান্ত বিশ্বাসের মেয়ে শৌল বালা দাস।

সাক্ষ্যপ্রমাণ ও আইনগত বিষয় পর্যালোচনা করে ২০০০ সালের ২২ জুন পটিয়ার সাব-অর্ডিনেট জজ আদালত শৌল বালার মামলা খারিজ করেন। পরে তিনি চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে আপিল করলেও ২০০৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর তা খারিজ হয়ে যায়।

অধস্তন আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন আবেদন করেন বাদীপক্ষ। একই বছর এ বিষয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৯ জুলাই রুলটি খারিজ করে অধস্তন আদালতের রায় ও ডিক্রি চূড়ান্তভাবে বহাল রাখেন উচ্চ আদালত।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970