সাংবাদিকরা বক্তব্য চাইলেই ক্ষেপে যান সাতক্ষীরা ডিসি, প্রেসক্লাবের প্রতিবাদ

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সাতক্ষীরায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতা, খারাপ আচরণ, ফোন না ধরা এবং ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অনীহার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে জরুরি সভা করেছে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটি।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাহী কমিটির সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কথিত অপেশাদার, তির্যক ও অসহযোগিতামূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

প্রেসক্লাবের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক ও যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আকরামুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি সংবাদ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলার আসামি আব্দুল আলিম কীভাবে কলারোয়া উপজেলা ভূমি অফিসে মামলা পরিচালনা করছেন—এ বিষয়ে তথ্য জানতে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান।

আকরামুল ইসলামের দাবি, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করতেই জেলা প্রশাসক উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় তিনি ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং এর আগে সদর উপজেলা কৃষি অফিসের একটি প্রকল্পের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়েও সাংবাদিককে ভর্ৎসনা করেন বলে অভিযোগ করা হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক তাকে যমুনা টেলিভিশনে কীভাবে চাকরি করেন, তা দেখে নেওয়ার কথা বলেন। পরে কক্ষে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেমসহ কয়েকজন কর্মকর্তা ক্যামেরায় কোনো ভিডিও ধারণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে ক্যামেরাপার্সন ইয়ারুল ইসলামকে ক্যামেরা পরীক্ষা করতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাভিশন ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান বলেন, গত ২৯ জুলাই সদর হাসপাতাল মোড়ের দুটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজুল ইসলাম। এ বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার পরামর্শ দিয়ে তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে সাংবাদিকদেরই পাল্টা ভর্ৎসনা করা হয় বলে জানান আসাদুজ্জামান।

প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ডিবিসি নিউজের এম বেলাল হোসাইন বলেন, সংবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসককে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়া জেলা প্রশাসকের কাজ নয়—এমন কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন বলে অভিযোগ করেন বেলাল।

একই ধরনের আচরণের অভিযোগ করেছেন মাই টেলিভিশনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবুসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত আরও কয়েকজন সাংবাদিক।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, জেলার সমস্যা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ করতে গিয়ে অতীতে কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সাংবাদিকরা এমন অসহযোগিতার মুখে পড়েননি। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তাই জেলা প্রশাসকের এমন আচরণ কাম্য বা গ্রহণযোগ্য নয়।

এদিকে গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের উপহার সামগ্রী দেওয়ার একটি অনুষ্ঠান নিয়েও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে না ডাকায় তারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।

সাতক্ষীরা বিএনপির আহ্বায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ বলেন, মঞ্চে কাউকে আমন্ত্রণ না জানানোয় জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নেতৃত্বে তারা সবাই অনুষ্ঠানস্থল থেকে চলে আসেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের আচরণ এবং অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতাদের না ডাকাসহ এসব ঘটনা নিয়ে সাতক্ষীরায় প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970