বাংলাদেশ বিশ্বস্ত বন্ধু চীনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী: প্রধানমন্ত্রী
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:০৭ পিএম
বাংলাদেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি চীনকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালুর ঘোষণাও দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগ ফোরাম’ শীর্ষক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে চীনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেন হংবিন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বহু বছরের আস্থা, সম্মান এবং বাস্তব সহযোগিতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। সময়ের সঙ্গে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং কূটনীতি, উন্নয়ন, বাণিজ্য ও শিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের অংশীদারত্ব বিস্তৃত হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। এই সময়ে উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী সরকার।
তারেক রহমান বলেন, উন্নত উৎপাদন ব্যবস্থা, বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি খাতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনের ধারায় উৎপাদন ব্যবস্থার নতুন কেন্দ্র গড়ে উঠবে এবং বাংলাদেশ সেই সম্ভাবনাময় গন্তব্যগুলোর অন্যতম হতে পারে।
চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এতে বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশই উপকৃত হবে।
তিনি জানান, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার ১৮০ দিনের একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস, সেবার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সরকারি সেবাকে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মূলধন ও মুনাফা নির্বিঘ্নে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মোংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব অঞ্চলে বন্দর সুবিধা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দক্ষ জনশক্তি ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বিনিয়োগ চুক্তিকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীরা অধিক নিরাপত্তা ও আস্থা পান।
বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র চালু করেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ, প্রণোদনা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পাওয়ার জন্য তথ্যভিত্তিক বিশেষ সেবাও চালু করা হয়েছে।
চীনে বাংলাদেশের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে চীনা বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগেই প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পাবেন। ফলে আগ্রহ প্রকাশ থেকে বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
তিনি আরও জানান, নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে ১৫ দিনেরও কম সময়ে কার্যক্রম শুরু করতে পারে, সে লক্ষ্যে নতুন অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চলতি বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা, ইলেকট্রনিক পণ্য, ডিজিটাল অবকাঠামো, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উন্নত বস্ত্রশিল্পকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
চীনা বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সম্ভাবনা ইতোমধ্যে অনেক চীনা প্রতিষ্ঠান সরাসরি প্রত্যক্ষ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, টেকসই প্রবৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধি অর্জনে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার এখনই উপযুক্ত সময়।