সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও তার পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
সাবেক স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান ও পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম এবং তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৮৩টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এসব হিসাবে জমা রয়েছে ১৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকার বেশি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমি এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা তানজির আহম্মেদ।
ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ পাওয়া অন্যরা হলেন মনিরুল ইসলামের স্ত্রী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা, তার শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন এবং শ্যালকের স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পা।
এর আগে দুদকের পক্ষে সংস্থাটির উপপরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মোজাম্মিল হোসেন এসব ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মনিরুল ইসলামের নামে থাকা ১১টি ব্যাংক হিসাবে ৭৮ লাখ ৬০ হাজার ৭২৮ টাকা ও ৩ হাজার ৯৭৮ ব্রিটিশ পাউন্ড রয়েছে। তার স্ত্রী সায়লা ফারজানার পাঁচটি হিসাবে রয়েছে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৭০ টাকা। এ ছাড়া রেজাউল আলম শাহীনের নামে থাকা ৪০টি হিসাবে ১০ কোটি ৬০ লাখ ৩৭ হাজার ৩৮২ টাকা এবং সানজিদা খানম টুম্পার নামে থাকা ২৭টি হিসাবে ৮ কোটি ২২ লাখ ৫১ টাকা জমা রয়েছে।
দুদকের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ছাড়া জঙ্গিবাদের তকমা দিয়ে কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামের দুটি বেসরকারি সংস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন মাধ্যমে মনিরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সেগুলো ভোগদখলে রাখার তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের অবৈধ সম্পদ থাকার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে দুদক।
অনুসন্ধানে সংগৃহীত নথিপত্রে অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে অসংখ্য ব্যাংক হিসাবের সন্ধান পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে আবেদনে। এসব হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করে বিদেশে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর করা হলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকায় ব্যাংক হিসাবগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন জানায় দুদক।