প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ, রাতে বস্তায় মিলল শিশু রাকার মরদেহ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৩১ এএম
বগুড়ার আদমদীঘিতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া ছয় বছর বয়সী শিশু রাকিকা আক্তার রাকার বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজনসহ তিনজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত রাকিকা আক্তার রাকা সান্তাহার পৌরসভার ইয়ার্ড কলোনি নূরানি মাদরাসার শিশু শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা রায়হান আলী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রতিদিনের মতো প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় রাকা। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও সে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পরে তার বাবা, দাদি ও ফুফুসহ স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
অনেক খোঁজাখুঁজির পরও শিশুটির সন্ধান না মেলায় বিষয়টি সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়িকে জানানো হয়। পরে সাধারণ ডায়েরি করার জন্য রাকার বাবাকে আদমদীঘি থানায় পাঠানো হয়।
এরই মধ্যে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পান, সান্তাহার পৌরসভার সাহেবপাড়া এলাকায় আমজাদ হোসেনের বাড়ির শয়নকক্ষসংলগ্ন একটি কক্ষে সাদা প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর রাকার মরদেহ পড়ে আছে। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা প্রধান সন্দেহভাজন আমজাদ হোসেনকে আটক করে রাখেন।
খবর পেয়ে আদমদীঘি থানা ও সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমজাদ হোসেন (৪০), তার স্ত্রী বন্যা (৩২) এবং অপর সহযোগী বাবুকে জনতার কাছ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেন। এ সময় গণপিটুনিতে আহত হওয়ায় আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রীকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান মিয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরের পাশে রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।