ক্রিকেটার নাঈমকে মারধর, এসআইসহ ৩ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৩৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্য নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধর ও থানায় নিয়ে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় খুলশী থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরদিন শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং পুলিশের সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে।

নাঈম হাসান জানান, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে তিনি শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে ফেরেন। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশায় বাসায় যাওয়ার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তার গাড়ি থামান।

তার অভিযোগ, পরিচয়পত্র দেখানো সত্ত্বেও এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একই সময় সাদা পোশাকে থাকা এক ব্যক্তি পাইপ দিয়ে মারধর করেন। তিনি বারবার নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও কেউ বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।

নাঈমের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে উপস্থিত শতাধিক মানুষ তার পরিচয় নিশ্চিত করলেও মারধর বন্ধ করা হয়নি। বরং তাকে আসামি উল্লেখ করে চুপ থাকতে বলা হয়।

তিনি আরও দাবি করেন, মারধরের একপর্যায়ে তাকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে খুলশী থানায় নেওয়ার পরও তিনি হেনস্তার শিকার হন।

নাঈম জানান, থানায় নিজের মোবাইল ফোন ফিরে পাওয়ার পর তিনি বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর বিসিবির কর্মকর্তারা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনা চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে অভিযানের আগে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়েছিল কি না এবং প্রাপ্ত তথ্য কতটা নির্ভুল ছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রাথমিকভাবে কিছু অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তদন্তে দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ছুটিতে থাকা খুলশী থানার এসআই মনিরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসআই শফিকুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করেন। তথ্য ছিল, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সোনার চালান বহন করা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন নাঈমের বাবা মাহবুবুল আলম। তিনি অভিযোগ করেন, খবর পেয়ে থানায় গেলে ডিউটি অফিসার তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন।

ঘটনার পর রাতে খুলশী থানায় নাঈমের স্বজন ও ক্রিকেটপ্রেমীরা ভিড় করেন এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, অভিযানের বিষয়ে তাকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। থানায় আনার পর নাঈমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ায় তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়। তবে বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভুক্তভোগী পক্ষ থানা ত্যাগ করতে রাজি হয়নি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে অংশ নেওয়া আরও এক কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970