মিস্ত্রী পরিচয়ে বাসায় ঢুকে নৃশংস হামলা, যেভাবে একের পর এক মা ও ৩ মেয়েকে খুন

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মর্মান্তিক এক হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন এক মা ও তার তিন মেয়ে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে পৌরসভার গোডাউন রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর একে একে মারা যান তারা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দিলে পরবর্তীতে তারও মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন শাহিনুর বেগম (৩৮), তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। সায়মা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু ছিলেন, ইকরা দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী এবং শিফা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে অন্তর মজুমদার ধারালো অস্ত্র নিয়ে শাহিনুর বেগমের বাসায় প্রবেশ করেন। স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বপরিচয়ের সূত্রেই তিনি ওই বাসায় যান। পুলিশ জানিয়েছে, অন্তর আগে স্ত্রীকে নিয়ে একই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার সামনে অন্তরকে দেখে এক নারী তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে পানির পাইপ মেরামতের মিস্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন। তবে তার আচরণে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর ঘরের ভেতর থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সকাল পৌনে ১১টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

প্রতিবেশীরা জানান, প্রথমে তারা বিষয়টিকে পারিবারিক ঝগড়া মনে করেছিলেন। পরে সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখে স্থানীয়দের ডাকাডাকি করা হয়। একপর্যায়ে লোকজন ঘরে প্রবেশ করে রক্তাক্ত অবস্থায় চারজনকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রশিদ জানান, শাহিনুর বেগম ও তার ছোট মেয়ে শিফা হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সায়মা। আর গুরুতর আহত ইকরাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে কুমিল্লায় মৃত্যু হয়।

হামলার পর অন্তর মজুমদার পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে গণপিটুনি দেন। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, নিহত পরিবারের বাড়ি কুমিল্লায়। কয়েক বছর আগে পরিবারের কর্তা কামাল হোসেন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। এরপর শাহিনুর বেগম এক ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন।

লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্ত অন্তর মজুমদারের ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল। তবে কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970