ইয়াবার নামে বিক্রি হচ্ছে রঙ করা জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
ইয়াবার নামে বিক্রি হচ্ছে রঙ করা জন্মনিয়ন্ত্রণ ও কোষ্ঠকাঠিন্যের বড়ি। মাত্র এক টাকার এসব বড়িতে লাল বা গোলাপি রঙের প্রলেপ দিয়ে ইয়াবার আদলে তৈরি করা হচ্ছে। পরে প্রকৃত ইয়াবা হিসেবে মাদকসেবীদের কাছে এসব বড়ি বিক্রি করা হচ্ছে। এতে অজানা ওষুধ সেবনের কারণে মাদকসেবীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
জানা গেছে, রাজশাহীর আইডি বাগানপাড়া রেললাইন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি হয়। পাশাপাশি মাদকসেবীদের আনাগোনাও দেখা যায়।
নগরীর চন্দ্রিমা থানার বারো রাস্তা, বুধপাড়া, কোট ঢালান, গুড়িপাড়া, রাজশাহী নিউমার্কেট, হরিপুরসহ বিভিন্ন এলাকাতেও কৌশলে ইয়াবা ও ইয়াবার আদলে তৈরি ওষুধ বিক্রির চক্র গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এসব এলাকায় প্রকৃত মাদকের পাশাপাশি ইয়াবার আদলে রঙ করা মায়াবড়ি ও ডুরালাক্স বড়ি বিক্রি করছে চক্রগুলো। কম দামে মাদক পাওয়ার আশায় অনেক তরুণ এসব বড়ি কিনতে সেখানে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াবার মতো দেখতে এসব বড়ির গায়ে লাল বা গোলাপি রঙের মার্কার কিংবা সাইনপেনের কালি লাগানো হয়। এরপর সেগুলোকে ইয়াবা হিসেবে মাদকসেবীদের কাছে বিক্রি করা হয়। জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও কোষ্ঠকাঠিন্যের ওষুধও এভাবে ইয়াবার আদলে সাজিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকসেবী জানান, ঘন ঘন অভিযানের কারণে অনেকেই এখন সরাসরি ইয়াবা বিক্রি করছে না। এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ২৮০ টাকা করে দুই পিস ইয়াবা কিনেছিলেন। পরে সেবনের সময় দেখতে পান, সেগুলো আসলে ওষুধ। ওই বড়ি খাওয়ার পর তার পায়খানার বেগ বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি বুঝতে পারেন তিনি।
আরেক মাদকসেবী জানান, মায়াবড়ি রঙ করে ইয়াবার মতো করে বিক্রি করা হচ্ছে। দেখতে ইয়াবার মতো হলেও সেগুলো প্রকৃত ইয়াবা নয়।
এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, শুধু ইয়াবা নয়, সব ধরনের মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধেই অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে মহানগর পুলিশ মাদক বিক্রির বিভিন্ন আস্তানা ভেঙে দিয়েছে এবং এসব স্থান থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে মায়াবড়ি ও ডুরালাক্স বড়ি ইয়াবার আদলে রঙ করে বিক্রির বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।