ফোনে মুক্তিপণ দাবি, পরদিন হোটেলকক্ষে মিলল শিক্ষকের মরদেহ
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭ পিএম
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আবুল বাশার তালুকদার নামে এক সহকারী শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, তাকে আটকে রেখে মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। এ ঘটনার পর থেকে হোটেলটির মালিক আতাউর রহমান হোসেন পলাতক রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে ভেদরগঞ্জ থানা সেতুসংলগ্ন ঢাকা আবাসিক হোটেলের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ওই শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবুল বাশার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার দেউলিয়াবাড়ি গ্রামের মৃত জোনাব আলী তালুকদারের ছেলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার ৮২ নম্বর খোলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে গাজীপুরের বাড়ি থেকে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নে দাদার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন আবুল বাশার। পথে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে আছেন বলে পরিবারের সদস্যদের জানান। তবে সোমবার থেকে পরিবারের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্বজনদের অভিযোগ, এরপর আবুল বাশারের ব্যক্তিগত মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে তার স্ত্রীর কাছে ফোন দেওয়া হয়। এ সময় চিকিৎসার কথা বলে প্রথমে দুই হাজার টাকা এবং পরে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তার স্ত্রী অবস্থান জানতে চেয়ে সেখানে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথা বললেও ফোনের অপর প্রান্ত থেকে কেউ নিজের পরিচয় বা সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানায়নি।
একপর্যায়ে আবুল বাশার শুয়ে আছেন, এমন একটি ছবি পাঠানো হয়। পাশাপাশি টাকা না দিলে তার মরদেহও খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে পরিবার। পরে স্বজনরা বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও আর কোনো সাড়া পাননি।
এ ঘটনায় উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাকে বিষয়টি জানান। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুঠোফোনের অবস্থান শনাক্ত করে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানা এলাকার পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আশপাশে অবস্থানের তথ্য পায়।
পরে রাতেই স্বজনরা ভেদরগঞ্জে পৌঁছে থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় ঢাকা আবাসিক হোটেলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় হোটেলটির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে আবুল বাশারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের ভাগিনা কবির হোসেন ও বড় ভাই মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, আবুল বাশারকে পরিকল্পিতভাবে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। পরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গোসাইরহাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শামসুল আরেফীন জানান, আবাসিক হোটেলের একটি কক্ষ থেকে শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্তের বিশেষ দল কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, হোটেলমালিকের পলাতক থাকা এবং মুঠোফোনের মাধ্যমে অর্থ দাবির বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।