চট্টগ্রামে গান গেয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা
মফস্বল সংবাদ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৩:৪৮ পিএম
দেশের সেরা দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার মতো চট্টগ্রামেও গান গেয়ে এক যুবককে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
‘মধু হই হই আঁরে বিষ খাওয়াইলা’ গানটি গেয়ে গেয়ে পাষণ্ড কিছু যুবক ২৪ বছর বয়সী শাহাদাত হোসেন নামের এক যুবককে দুই হাত বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করেছে। ঘটনাটি গত ১৪ আগস্টের হলেও প্রকাশ্যে এসেছে শনিবার (২১ আগস্ট)।
ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, শাহাদাত হোসেনের দুই হাত দুই পাশে স্টিলের পাইপের সঙ্গে বেঁধে কিছু যুবক গান গেয়ে গেয়ে মারধর করছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ আগস্ট নগরীর দুই নম্বর গেট এলাকায় নির্মম এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। হত্যার পর তার লাশ ফেলে রাখা হয়েছিল নগরের প্রবর্তক মোড়ে অদূরে বেসরকারি একটি হাসপাতালে সামনে রাস্তায়।
এ ঘটনায় পরের দিন পাঁচলাইশ থানায় ভিকটিমের চাচা মোহাম্মদ হারুন অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। কিন্তু সেসময় তাকে (শাহাদাত) মারধরের ভিডিওটি ফেসবুকে আসেনি। গত দুইদিন ধরে ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে নড়েচড়ে বসে নগর পুলিশ প্রশাসন।
জানা গেছে, শাহাদাত হোসেন নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি থানাধীন পাঁচবাড়িয়া ইউনিয়নের নদনা গ্রামে। থাকতেন কোতোয়ালী থানার বিআরটিসি এলাকার বয়লার কলোনিতে।
মামলার বাদী জানান, শাহাদাত হোসেন বিআরটিসি এলাকার ফলমন্ডীতে কাজ করতেন। দুই বছর আগে শারমীন আক্তার নামে এক নারীকে বিয়ে করেন।
এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট বেলা ২টার দিকে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন শাহাদাত। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফোন করলে কিছুক্ষণের মধ্যে বাসায় চলে আসবেন বলে তার স্ত্রীকে জানান শাহাদাত। গভীর রাত পর্যন্ত স্বামী বাসায় ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি করেন শারমিন। এ সময় শাহাদাতের মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফেসবুকে বাদী দেখতে পান, নগরের প্রবর্তক মোড়ের অদূরে বদনাশাহ মিয়া (রহ.) মাজারের বিপরীতে সড়কের পাশে তার ভাতিজা শাহাদাত হোসেনের মৃতদেহ পড়ে আছে।
এর আগে রাত ৯টার দিকে খবর পেয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শাহাদাত হোসেনের নিথর দেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওইদিন রাতেই চমেক হাসপাতালে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে শাহাদাতের লাশ সনাক্ত করেন তার স্ত্রী শারমীন আক্তার এবং মামলার বাদী হারুন। সেদিন রাতে মৃত অবস্থায় শাহাদাত হোসেনকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী।
পুলিশ জানায়, চমেক হাসপাতালে মৃত ঘোষণার পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য শাহাদাতের লাশ চমেকের ফরেনসিক মর্গে পাঠায় পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে বলা হয়, শাহাদাত হোসেনের মাথা, গলাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখমের পাওয়া গেছে।
বাদীর ধারণা অজ্ঞাত আসামিরা তার ভাতিজাকে মারধরের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় পরদিন শাহাদাত হোসেনের চাচা মোহাম্মদ হারুন বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নগর পুলিশের মুখপাত্র উপ-কমিশনার (অপরাধ) মোহাম্মদ রইছ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ২১ সেপ্টেম্বর এক যুবককে দুই হাত বেঁধে গান গেয়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু যুবকের মারধরের একটি ভিডিও আমাদের নজরে আসে। সেই ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে জানতে পারি মারধরের শিকার যুবকটিই শাহাদাত হোসেন। অপরাধীদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।