কামাল মাওলা মসজিদকে মন্দির ঘোষণা, নামাজে নিষেধাজ্ঞা দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের ঐতিহাসিক ভোজশালা-কামাল মাওলা মসজিদ কমপ্লেক্সকে দেবী সরস্বতীর মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই স্থানে মুসলিমদের নামাজ আদায়ের পূর্ববর্তী অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে।

শুক্রবার দেওয়া রায়ে আদালত জানিয়েছে, বিতর্কিত এই স্থানে এখন থেকে শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজার অধিকার বহাল থাকবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা শুক্রবারের জুমার নামাজও আর আদায় করা যাবে না।

ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চের বিচারপতি বিজয় কুমার শুক্লা ও বিচারপতি অলোক অবস্থীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ ও ঐতিহাসিক দলিল বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, স্থানটির মূল পরিচয় দেবী সরস্বতীর মন্দির। আদালতের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি পরমার রাজবংশের রাজা ভোজের আমলে প্রতিষ্ঠিত একটি সংস্কৃত শিক্ষাকেন্দ্র বা ভোজশালা ছিল।

আদালত আরও উল্লেখ করেন, সেখানে হিন্দুদের উপাসনার ধারাবাহিকতা কখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় অবস্থিত এই স্থাপনাটি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের সংরক্ষিত নিদর্শন। ২০০৩ সালের একটি বন্দোবস্ত অনুযায়ী, প্রতি মঙ্গলবার সেখানে হিন্দুরা পূজা করতেন এবং মুসলিমরা শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতেন। তবে হিন্দু পক্ষ আদালতে একক উপাসনার অধিকার দাবি করে আবেদন জানায়।

শুনানিকালে মুসলিম পক্ষ এই স্থানকে মসজিদ হিসেবে দাবি করে। অন্যদিকে জৈন সম্প্রদায়ের এক আবেদনকারী এটিকে মধ্যযুগীয় জৈন মন্দির ও গুরুকুল বলে উল্লেখ করেন।

হাইকোর্টের নির্দেশে স্থানটিতে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা চালায় ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগ। টানা ৯৮ দিনের সমীক্ষা শেষে দুই হাজারের বেশি পৃষ্ঠার প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান মসজিদের স্থানে আগে পরমার রাজাদের আমলের একটি বৃহৎ স্থাপনা ছিল এবং পুরোনো সেই স্থাপনার বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করেই বর্তমান কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। হিন্দু পক্ষের দাবি, উদ্ধার হওয়া মুদ্রা, ভাস্কর্য ও শিলালিপি প্রমাণ করে এটি একটি মন্দির ছিল।

অন্যদিকে মুসলিম পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট। তবে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সংস্থাটি জানায়, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতেই পুরো সমীক্ষা নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছে।

মুসলিম পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালমান খুরশিদ আদালতে যুক্তি দেন, শুধু প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ভিত্তিতে কোনো স্থাপনার ধর্মীয় চরিত্র বা মালিকানা নির্ধারণ করা যায় না। তিনি বলেন, অতীতের সম্ভাব্য ঐতিহাসিক বাস্তবতা বর্তমান আইনি মালিকানার একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯১ সালের উপাসনালয় আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্যই ছিল পুরোনো ধর্মীয় বিরোধ নতুন করে উসকে দেওয়া বন্ধ করা।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970