যুদ্ধ চলাকালে গুপ্তচরবৃত্তি করায় ইরানে প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৮:৫৬ পিএম
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের সময় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে প্রথমবারের মতো এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য শত্রুপক্ষের কাছে পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত মোশতবা কিয়ান নামের ওই ব্যক্তিকে রোববার ভোরে ফাঁসি দেওয়া হয়।
ইরানের বিচার বিভাগের মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম মিজান অনলাইন-কে জানান, মোশতবা কিয়ান দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সংবেদনশীল তথ্য বিদেশি শত্রুপক্ষের কাছে সরবরাহ করেছিলেন। পরে তাকে একটি কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৪০ দিনব্যাপী চলা সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় কিয়ান ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পর্কিত তথ্য পাচার করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতারা নিহত হওয়ার পর এই সংঘাত শুরু হয়। এরপর তেহরানও পাল্টা হামলা চালায়। ওই সময় গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে এটিই প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বলে জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গুপ্তচরবৃত্তি ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বাড়িয়েছে ইরান। তবে এর আগে যেসব দণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল, সেগুলো যুদ্ধ শুরুর আগের মামলার ছিল।
মিজান অনলাইন আরও দাবি করেছে, মোশতবা কিয়ান শত্রুপক্ষ-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কে একাধিক তথ্য পাঠিয়েছিলেন, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পের কারখানার অবস্থান সম্পর্কিত তথ্যও ছিল। তিনি স্যাটেলাইট টেলিভিশন নেটওয়ার্কেও কিছু তথ্য পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি, যে স্থাপনার তথ্য তিনি পাচার করেছিলেন, যুদ্ধ চলাকালে সেটি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। গ্রেপ্তারের ৫০ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে তার বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সশস্ত্র বিদ্রোহ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আরও দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে ইরান।
সূত্র: এএফপি