বিলুপ্ত করা হচ্ছে র্যাব, আসছে নতুন বাহিনী ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রণীত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে বাহিনীর মৌলিক দায়িত্ব ও ক্ষমতার বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একাধিক নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ বা হয়রানির অভিযোগ সরাসরি করতে পারবেন সাধারণ নাগরিক। এসব অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির জন্য পৃথক অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
খসড়া অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের অধীন একটি বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে এসআরবি গঠন করা হবে। বাহিনীর প্রধান হবেন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার একজন মহাপরিচালক। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন, কোম্পানি, প্লাটুন ও সেকশন গঠন করা যাবে। সদর দপ্তর ঢাকায় থাকলেও দেশের যেকোনো স্থানে ইউনিট স্থাপনের সুযোগ থাকবে।
শুধু পুলিশ নয়, অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকেও প্রেষণে সদস্য নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। প্রেষণে নিয়োগের মেয়াদ ন্যূনতম দুই বছর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাইবার অপরাধ, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধকে এসআরবির প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজন হলে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করবে ইউনিটটি।
আদালত, সরকার বা পুলিশের মহাপরিদর্শকের নির্দেশে মামলা দায়ের ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতাও থাকবে এসআরবির। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তার পরিচালনার বিধান রাখা হয়েছে। মাদক, অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী আস্তানা, মানবপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধে অভিযান চালাতে পারবে বাহিনীটি।
খসড়ায় তদন্তের দায়িত্ব অন্তত সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
নাগরিকদের অভিযোগ তদন্তে গঠিত অভিযোগ প্রতিকার কমিটির সভাপতিত্ব করবেন এসআরবির একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক। কমিটিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অভিজ্ঞ সরকার মনোনীত একজন সদস্য থাকবেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে এই কমিটি।
এছাড়া সদস্যদের জন্য পৃথক শৃঙ্খলাবিধিও নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অমান্য, বেআইনিভাবে অর্থ আদায়, সরকারি অস্ত্র বা সরঞ্জামের অপব্যবহার, অপরাধীকে পালাতে সহায়তা, মাদকাসক্ত অবস্থায় দায়িত্ব পালন কিংবা অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
খসড়া আইনে আরও বলা হয়েছে, নতুন আইন কার্যকর হলে র্যাবের সব সম্পদ, জনবল, তহবিল, দায়-দায়িত্ব, চলমান মামলা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিদ্যমান চুক্তি এসআরবির অধীনে স্থানান্তরিত হবে। নতুন বিধিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ র্যাবের বিদ্যমান কার্যবিধি বহাল থাকবে।
খসড়া আইনের বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাহিনীর নাম ও সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও অভিযান পরিচালনা, তল্লাশি, গ্রেপ্তার এবং তদন্তের মতো মৌলিক ক্ষমতা বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নাগরিক অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা ও কঠোর শৃঙ্খলাবিধি যুক্ত করা হয়েছে।