হিন্দু শিক্ষার্থীকে কালিমা-সূরা ফাতিহা মুখস্থের হোমওয়ার্ক, শিক্ষিকাকে বহিষ্কার
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ এএম
ভারতের তেলেঙ্গানার হায়দরাবাদে একটি বেসরকারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির এক হিন্দু শিক্ষার্থীকে ‘কালিমা’ ও ‘সুরা ফাতিহা’ মুখস্থ করে আবৃত্তি করার হোমওয়ার্ক দেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষিকাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবক ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নেয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হায়দরাবাদের সাঈদাবাদ এলাকার একটি বেসরকারি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের স্কুল ডায়েরিতে ‘কালিমা’ ও ‘সুরা ফাতিহা’ মুখস্থ করার নির্দেশ লিখে দেন শিক্ষিকা শেখ আয়েশা পারভিন। এরপর শিক্ষার্থীদের ডায়েরির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই শ্রেণিতে মোট ২৫ জন শিক্ষার্থী ছিল। তাদের মধ্যে ২৪ জন মুসলিম এবং একজন হিন্দু শিক্ষার্থী। অভিযোগ রয়েছে, শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকেই একই ধর্মীয় পাঠ মুখস্থ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনাটি জানার পর হিন্দু শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে অন্য অভিভাবকরাও প্রতিবাদে অংশ নেন। তারা ঘটনাটিকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে এর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে স্কুল কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়। বরখাস্তপত্রে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটির অধীন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য তিনি আবেদন করতে পারবেন না।
হায়দরাবাদের চারমিনার জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার খারে কিরণ প্রভাকর বলেন, ঘটনাটি শিক্ষা নীতি ও স্কুলের নিজস্ব নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। বিষয়টি সামনে আসার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটি ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা বিনোদ বানসাল এ ঘটনাকে শিশুদের সাংবিধানিক অধিকার ও অভিভাবকদের আস্থার ওপর আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টির মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা শিক্ষিকাকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে এ ধরনের ঘটনায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।