মানবিক চিকিৎসক ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালে যুবদল নেতার চাঁদাবাজি
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজারের বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করে মানবসেবায় দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম এবার চাঁদাবাজ চক্রের হুমকির মুখে পড়েছেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে একদল ব্যক্তি ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ডা. কামরুল ইসলাম ঢাকার শ্যামলীতে ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি’ নামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় ১৯ বছর ধরে তিনি বিনা পারিশ্রমিকে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসছেন। তার অস্ত্রোপচারের সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি। মানবকল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২২ সালে স্বাধীনতা পদক লাভ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, শেরেবাংলা নগর থানা যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মঈন উদ্দিন মঈনের নেতৃত্বে একটি চক্র গত প্রায় এক বছর ধরে হাসপাতালটিতে চাপ সৃষ্টি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। ডা. কামরুল ইসলামের দাবি, গত বছরের জুলাই-আগস্ট থেকে বিভিন্নভাবে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। কখনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর হুমকি, আবার কখনো সরাসরি ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পরিস্থিতি জটিল করে তোলা হচ্ছে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এক ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কর্মরত এক স্টাফকে ধমক দিচ্ছেন এবং নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মঈন উদ্দিন মঈন। তার সঙ্গে জড়িত আরেকজনের বিরুদ্ধেও খুন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ডা. কামরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি একাধিকবার রাজনৈতিক দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছে অভিযোগ করলেও এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাননি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের খাবার সরবরাহ সংক্রান্ত দরপত্র নিয়ে বিরোধ থেকেই মূলত এ পরিস্থিতির সৃষ্টি। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে চক্রটি চাঁদা দাবি ও চাপ প্রয়োগ শুরু করে।
এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের তদন্ত চলছে। সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে থানায় একটি সমঝোতা বৈঠক হয়েছে। তবে সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ এখনো তাদের কাছে স্পষ্টভাবে আসেনি, বরং ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।