জ্বালানি তেল ভারতে পরিশোধন করে দেশে আনতে চায় সরকার
মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২৬, ১০:৩৮ পিএম
জ্বালানি তেলের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ভারতের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার পর্যায়ে তেল পরিশোধনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। ১৬ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ‘জরুরি’ চিঠি পাঠিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ভারতের সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্র জানায়, চিঠিটি পররাষ্ট্র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগকেও অবহিত করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি ইতিমধ্যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, তবে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার সময়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবটির মূল ভিত্তি হলো একটি টোলিং মডেল, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ নিজস্ব বা অর্থায়িত অপরিশোধিত তেল ভারতের শোধনাগারে পরিশোধন করবে এবং এর বিনিময়ে নির্ধারিত পরিশোধন ও পরিবহন ব্যয় পরিশোধ করবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে সংস্থাটি কারিগরি ও বাণিজ্যিক বিষয়গুলো নিয়ে নেতৃত্ব দেবে।
কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তাবটি দ্রুত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগোনো প্রয়োজন। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি, তিনি জানান এটি দুই দেশের সংবেদনশীল বিষয়।
বর্তমানে দেশের প্রধান জ্বালানি তেল পরিশোধন ব্যবস্থা ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের ওপর নির্ভরশীল, যা সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতায় রয়েছে। বিদ্যুৎ, কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে চাহিদা বাড়ায় স্থানীয় পরিশোধন সক্ষমতার ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে।
এই অবস্থায় ভারতের বিস্তৃত ও আধুনিক শোধনাগার ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা বহুমুখী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রস্তাব অনুযায়ী, ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ ও পরিশোধন করবে, পরে তা বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে।
তবে এই ব্যবস্থার কিছু ঝুঁকিও রয়েছে বলে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। বিদেশি অবকাঠামোর ওপর নির্ভরতা বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি স্বনির্ভরতায় প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি মূল্য নির্ধারণ, টোলিং খরচ এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হতে পারে, তবে দেশীয় শোধনাগার উন্নয়নের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পরিপূরক কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
সরকার একই সঙ্গে দেশের নিজস্ব পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও এগিয়ে নিচ্ছে, তবে অর্থায়ন সংকটের কারণে অগ্রগতি ধীরগতির বলে জানা গেছে।