পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে চলার সংস্কৃতি থেকেই দুর্নীতির জন্ম: হাসনাত আবদুল্লাহ

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

পুলিশের দুর্নীতির পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং পর্যাপ্ত বাজেটের অভাবকে দায়ী করেছেন সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেছেন, পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে চলার সংস্কৃতিই মূলত দুর্নীতির জন্ম দেয়।

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তিনি এই বিষয়ে কথা বলেছেন। তার মতে, এই বাধ্যবাধকতা দূর করতে পুলিশের কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, গুরুতর মামলার তদন্তে বরাদ্দ অত্যন্ত কম। খুন ও ডাকাতির মতো মামলার তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে মাত্র ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয়, যা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি তদন্ত পরিচালনা করা কঠিন।

তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার কোটি টাকার অর্থপাচার মামলার তদন্তে বরাদ্দ মাত্র তিন হাজার টাকা, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। এই অবস্থায় তদন্ত কর্মকর্তাদের নিজের পকেট থেকে খরচ করতে হয়, ফলে অনেক সময় তারা অনাকাঙ্ক্ষিত উপায়ে অর্থ সংগ্রহে বাধ্য হন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পুলিশ সদস্যদের কর্মঘণ্টা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তার মতে, অন্যান্য সরকারি চাকরিতে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ও সাপ্তাহিক ছুটি থাকলেও পুলিশকে দিনে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়।

তিনি জানান, সংসদে আলোচনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওভারটাইম দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের জন্য মানসম্মত খাবার ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

জনগণের আস্থা ফেরাতে পুলিশের কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর জোর দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, পুলিশকে অন্যায় বা বেআইনি নির্দেশ না মানার সাহস অর্জন করতে হবে। প্রভাবশালী বা রাজনৈতিক চাপের কারণে বেআইনি কাজ করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি স্বীকার করেন, অনেক সময় জনপ্রতিনিধিরাও অজান্তেই এই সংস্কৃতির অংশ হয়ে যান। তবে পুলিশকে অবশ্যই আইন অনুযায়ী কাজ করতে হবে এবং বেআইনি নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করতে হবে।

এছাড়া বেআইনি নির্দেশ না মানার কারণে পুলিশ সদস্যরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়ন ও পদোন্নতির আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য।

সবশেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকার ও সংসদ যখন পুলিশের স্বাধীনতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলছে, তখন পুলিশ বাহিনী নিজেও কি সেই পরিবর্তনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত?

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970