আমির হামজার ওপর হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে জামায়াতের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

মনোযোগ প্রকাশ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

রোববার দুপুর ১২টার দিকে কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়ার জেলা জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব দাবি জানান মুফতি আমির হামজা।

সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবজাল হোসেন এবং কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আমির হামজা বলেন, তার গাড়ির সামনে ও পেছনে পুলিশের গাড়ি ছিল। দুটি গাড়িতে ১৫ থেকে ১৬ জন পুলিশ সদস্য থাকার পরও একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, জেলায় দায়িত্ব পালনকারী প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। কয়েক দিন আগে তার মেয়ের গলার চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যরা যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়।

আমির হামজা সর্বস্তরের জনগণকে ধৈর্য ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তবে প্রশাসন দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনতে ব্যর্থ হলে কুষ্টিয়ার শান্তিকামী জনগণ রাজপথে কঠোর জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক দাবি করেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল। তার অভিযোগ, গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট দলের নেতাকর্মীরাও হামলায় অংশ নিয়েছে। ভিডিও ফুটেজে তাদের স্পষ্ট দেখা গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

লিখিত বক্তব্যে আমির হামজা বলেন, গণঅধিকার পরিষদের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা তার গাড়িবহরে অতর্কিত ও বর্বর হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না; বরং শান্ত কুষ্টিয়াকে অশান্ত করা এবং গণতান্ত্রিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি জনগণের নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন। কিন্তু রাজনীতির নামে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে প্রকাশ্যে একজন সংসদ সদস্যের ওপর হামলা করার সাহস দেখায়, তারা সমাজ ও কুষ্টিয়াবাসীর শত্রু।

হামলার ঘটনায় তিন দফা দাবি তুলে ধরেন আমির হামজা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা এবং স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক চাপমুক্ত হয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আমির হামজা বলেন, তার গাড়ির সামনে সদর থানার ওসির গাড়ি এবং পেছনে দ্বিতীয় ওসির গাড়ি ছিল। এরপরও তার গাড়ি ও তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্য হয়েও যদি তিনি নিরাপত্তা না পান, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার পরিস্থিতি কী—তা সহজেই বোঝা যায়।

উল্লেখ্য, শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজার গাড়িতে গণঅধিকার পরিষদের ব্যানারে কয়েকশ মানুষ হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর জামায়াত ও গণঅধিকার পরিষদের কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়েও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: জাহিদুল ইসলাম

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970