ডিএনএ পরীক্ষায় নির্দোষ ইমাম, ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার আপন বড় ভাই
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মে ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় দায়ের হওয়া এক আলোচিত ধর্ষণ মামলার তদন্তে বেরিয়ে এসেছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফরেনসিক ও ডিএনএ পরীক্ষার ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং ভুক্তভোগী কিশোরীর সন্তানের জৈবিক পিতা হিসেবে তার বড় ভাই মোরশেদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়েছে।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। অভিযোগপত্রে মোজাফফর আহমদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর কিশোরীর পরিবার মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করে। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হলে এক মাস দুই দিন কারাগারে থাকতে হয়। ঘটনার পর তিনি স্থানীয় মসজিদের ইমামতির দায়িত্ব হারান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের চাকরি থেকেও বরখাস্ত হন।
তদন্তের একপর্যায়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগের ফরেনসিক পরীক্ষায় মোজাফফরের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী জানান, তার বড় ভাই মোরশেদ দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন নির্যাতন করে আসছিলেন। পরিবারের সদস্যরা মূল ঘটনা আড়াল করতে মোজাফফর আহমদকে মামলায় জড়িয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
পরবর্তীতে মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে শিশুটির সঙ্গে তার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়া যায়। এতে তদন্ত কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন, শিশুটির জৈবিক পিতা মোরশেদ। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর মোজাফফর আহমদ বলেন, সত্য একদিন প্রকাশ হবেই। মিথ্যা অভিযোগে তিনি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়েছেন, চাকরি হারিয়েছেন এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মামলার খরচ চালাতে তাকে জমিও বিক্রি করতে হয়েছে। তিনি এ ঘটনার বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।
তার আইনজীবী আবদুল আলীম মাকসুদ বলেন, শুরু থেকেই এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা ছিল। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে এসেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম জানান, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর স্পষ্ট হয়েছে যে, একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।