চুরি হওয়া ফ্রিজ মিললো পুলিশ কর্মকর্তার বাসায়
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ মে ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম
নাটোরের সিংড়ায় চুরির ঘটনায় আটক এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দিয়ে তার কাছ থেকেই চুরির মালামাল কেনার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এসআই মো. নজরুল ইসলাম সিংড়া থানায় কর্মরত। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে সিংড়া পৌর এলাকার চাঁদপুর মহল্লার বাসিন্দা জামাল উদ্দিনের মাদকাসক্ত ছেলে মাসুম আলী তার বড় ভাই মুনছের আলীর বাসা থেকে একটি ফ্রিজসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে।
ঘটনার রাতে ভ্যানগাড়িতে করে ফ্রিজটি নিয়ে যাওয়ার সময় নাটোর–বগুড়া মহাসড়কের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে টহলরত এসআই নজরুল ইসলাম ভ্যানটি আটক করেন। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাসুম আলী পালিয়ে যায়। পরে জব্দ করা ফ্রিজটি থানায় জমা না দিয়ে পথচারী দুজনের সহায়তায় নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী সাজু ভুন্ডু ও আবু হানিফ জানান, পরদিন সকালে মাসুম আলী এসআই নজরুল ইসলামের বাসায় গিয়ে চুরির বিষয়টি স্বীকার করে। এরপর এসআই নজরুল ১১ হাজার ৫০০ টাকায় ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে ফ্রিজটি কিনে নেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এদিকে চুরির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ফ্রিজের মালিক মুনছের আলী ও তার পরিবারের সদস্যরা মালামাল ফেরত চাইতে থানায় যান।
ভুক্তভোগী মুনছের আলী বলেন, “আমার ছোট ভাই আমার বাসা থেকে ফ্রিজটি চুরি করেছিল। পরে জানতে পারি সেটি এসআই নজরুলের কাছে রয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ দিয়ে আমার মালামাল ফেরত চেয়েছি।”
মুনছের আলীর মা মর্জিনা বেগম বলেন, “পরে আমরা জানতে পারি পুলিশ কর্মকর্তা নজরুল ফ্রিজটি নিয়েছেন। লোকজনের মাধ্যমে টাকা দিয়ে আমাদেরই ফ্রিজ ফেরত নিতে হয়েছে। পরে সার্কেল অফিসে আপোস মীমাংসার মাধ্যমে ফ্রিজটি ফেরত পাই।”
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে অভিযুক্ত এসআই নজরুল ইসলামকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম বলেন, “একটি ফ্রিজ কেনাবেচার বিষয় শুনেছি, তবে এটি চুরির মালামাল ছিল কিনা তা নিশ্চিত নই। এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগও পাইনি।”
অন্যদিকে অভিযোগ উঠেছে, সিংড়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নূর মোহাম্মদ আলী বিষয়টি দ্রুত মীমাংসার চেষ্টা করেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করে পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
এ বিষয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক জানান, অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।