ফজরের আগমুহূর্তে ছাত্রীকে ধরে রুমে নিয়ে যান পরিচালক, মাদরাসায় আগুন
সারাদেশ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
পাবনা সদর উপজেলায় এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মহিলা কওমি মাদরাসায় অগ্নিসংযোগ করেছেন স্থানীয় উত্তেজিত জনতা। এ ঘটনায় মাদরাসার পরিচালক আবু ইউসুফকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের দড়িভাউডাঙ্গা গ্রামে পদ্মা মাঠসংলগ্ন নুরে মদিনা মহিলা কওমি মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আবু ইউসুফ পাবনা সদর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের খালিশপুর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে। তিনি ওই মাদরাসার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ফজরের আজানের আগে এক ছাত্রী শৌচাগারে যাওয়ার জন্য কক্ষ থেকে বের হন। এ সময় শিক্ষক ইউসুফ তাকে ধরে জোর করে একটি কক্ষে নিয়ে যান বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে দাবি ওই ছাত্রীর।
ছাত্রীর চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় ছুটে যান। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ওই ছাত্রীর অভিযোগ, এর আগেও তাকে একাধিকবার অচেতন করে ধর্ষণ করা হয়েছে। এ জন্য চেতনানাশক পদার্থ ব্যবহার করা হতো বলেও দাবি করেছেন তিনি। এ ছাড়া ঘটনার পর তাকে জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ খাওয়ানো হতো বলে অভিযোগ করেন ওই ছাত্রী।
মাদরাসার আরও কয়েকজন ছাত্রীর সঙ্গে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি তার। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিযুক্ত শিক্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ওই ছাত্রী।
এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উত্তেজিত লোকজন মাদরাসা ও অভিযুক্ত শিক্ষকের থাকার বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রীর স্বজনেরা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।