ছেলে কৃষি কর্মকর্তা, বাবা পেলেন সারের ডিলারশিপ

সারাদেশ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছেলের প্রভাব খাটিয়ে বাবাকে সারের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নে মেসার্স আইমান এন্টারপ্রাইজের নামে ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুল বাতেন। তার ছেলে মোহাম্মদ দাউদ একই উপজেলায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে ডিলার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষি বিভাগে ছেলের দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাব খাটিয়ে ডিলারশিপ পেয়েছেন আব্দুল বাতেন। একই উপজেলায় কর্মরত একজন কৃষি কর্মকর্তার বাবাকে সারের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় সার বিতরণ ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তবে বাবার ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে নিজের প্রভাব খাটানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ দাউদ। তার দাবি, অনেকেই ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেছিলেন। তার বাবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ম অনুযায়ী সঠিক থাকায় তিনি মনোনীত হয়েছেন।

মোহাম্মদ দাউদ বলেন, তার বাবা একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তি এবং নিজের ওপর নির্ভরশীল। তিনি নিজে একটি ছোট পদে চাকরি করেন, নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা তার নেই। উপজেলা, জেলা ও সচিবালয় পর্যায়ে যাচাই বাছাইয়ের পর নিয়োগ চূড়ান্ত হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় তার কোনো ভূমিকা বা হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না।

একই অভিযোগের বিষয়ে মো. আব্দুল বাতেন বলেন, ব্যবসার ক্ষেত্রে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রয়োজনীয় ও বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়েই তিনি ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছেন। কাগজপত্র যাচাইয়ের পর তাকে নির্বাচিত করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ছেলের প্রভাব খাটানোর কোনো বিষয় নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, নোয়াখালী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশীষ কুমার কর জানিয়েছেন, সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এখনো কারও সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদন করা হয়নি। প্রাপ্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। তদন্তে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের মনোনয়ন বাতিল করা হবে।

উল্লেখ্য, হাতিয়ায় সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার গুদাম না থাকা সত্ত্বেও মেসার্স ওয়াসিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আক্তার হোসেনকে ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. মনির উদ্দিন।

নীতিমালা অনুযায়ী, সারের ডিলারের গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ মেট্রিক টন হতে হবে। তবে উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যয়নপত্র অনুযায়ী, প্রস্তাবিত গুদামটির আয়তন মাত্র ৩২২ বর্গফুট। এর দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট এবং প্রস্থ ১৪ ফুট। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্ধারিত ধারণক্ষমতার তুলনায় গুদামটি অপর্যাপ্ত।

হাতিয়ার একাধিক ইউনিয়নে সারের ডিলার নিয়োগ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় পুরো উপজেলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

প্রকাশক: মাহমুদুল হাসান

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক: সুজন মাহমুদ

বার্তা সম্পাদক: শরিফুল ইসলাম

যোগাযোগের ঠিকানা:

কুড়িগ্রাম অফিস: কলেজ রোড, চর রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম।

ঢাকা অফিস: ২/এ, কালাচাঁদপুর মেইন রোড, ঢাকা- ১২১২

ইমেইল: monojogprokashnews@gmail.com

মোবাইল: 09658369970